নয়াদিল্লি, ৯ জুন (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছরে প্রথমবারের মতো দেশ একইসঙ্গে দরিদ্র কল্যাণ এবং নজিরবিহীন উন্নয়নের সাক্ষী হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় অমিত শাহ বলেন, “ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনেই নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে দেশ প্রথমবার দরিদ্র কল্যাণ ও অভূতপূর্ব উন্নয়নের সমান্তরাল বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করেছে।”
তিনি বলেন, “৮০ কোটি মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য প্রদান, দেশে ৯০টিরও বেশি নতুন বিমানবন্দর ও ১৪০টির বেশি বন্দে ভারত ট্রেন চালু করা, ৪ কোটিরও বেশি দরিদ্র পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ, ১.৪৫ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৩,০০০ কিলোমিটার আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ৫০ কোটি মানুষকে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা এবং ১০ কোটিরও বেশি পরিবারকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া— এই সবকিছুর পাশাপাশি ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।”
অমিত শাহ আরও দাবি করেন, “মোদিজি গত ১২ বছরে একদিনও ছুটি না নিয়ে নিরলসভাবে দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করে গিয়েছেন।”
তিনি বলেন, নেতৃত্বের উদ্দেশ্য যদি নির্মল হয়, লক্ষ্য যদি জাতীয় স্বার্থে নিবেদিত থাকে এবং প্রতিশ্রুতি যদি সম্পূর্ণ হয়, তবেই এমন পরিবর্তন সম্ভব।
প্রসঙ্গত, ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির টানা দায়িত্বপালনের মেয়াদ ৪,৩৯৯ দিনে পৌঁছাবে। এর ফলে তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড অতিক্রম করবেন।
এদিকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব প্রধানমন্ত্রী মোদির ১২ বছরের শাসনকালকে ‘উন্নত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে আত্মনিবেদিত সেবার যাত্রা বলে অভিহিত করেছেন। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল দেশের শাসক নন, তিনি ‘প্রধান সেবক’, যিনি ১৪০ কোটি ভারতীয়ের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
মোহন যাদবের দাবি, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস’-এর মন্ত্রে পরিচালিত হয়ে মোদির নেতৃত্বে দরিদ্র, যুব, কৃষক ও মহিলাদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত তার সাংস্কৃতিক গর্ব এবং জাতীয় আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে।
নাইডু বলেন, “ভারতের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক নেতা ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ১২ বছর পর সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। ইতিহাস এই সময়কে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নয়, বরং ভারতের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার যুগ হিসেবে স্মরণ করবে।”
তাঁর মতে, মোদি প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। জনধন অ্যাকাউন্ট, আধার, ইউপিআই এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচিগুলির একটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “২০২৪ সালের এই দিনেই নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছিলেন।”
তিনি বলেন, “গত ১২ বছরের ‘সেবা যাত্রা’ দরিদ্রের ক্ষমতায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা, রূপান্তরমূলক সংস্কার, দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে।”
রাজনাথ সিংয়ের মতে, ‘সেবা আগে, স্বার্থ পরে’ নীতিতে পরিচালিত এই ১২ বছরের পথচলা উন্নত ভারত ২০৪৭ গঠনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে পরপর তিনবার জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর শাসনকালে নতুন সংসদ ভবন, সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন, কর্তব্যপথ, বন্দে ভারত ট্রেন, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি, আইএনএস বিক্রান্ত, কাশ্মীর রেল সংযোগ, নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নমো ভারত আরআরটিএস এবং গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মতো একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।























