রাষ্ট্রসংঘ, ৯ জুন (আইএএনএস): রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান এবং রাষ্ট্রসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সমালোচনার কড়া জবাব দিল ভারত। একই সঙ্গে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক হামলাকে ‘বিবেকহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
সোমবার আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ বলেন, “আজকের বৈঠকে পাকিস্তান ইউএনএএমএ-র উদ্দেশ্য এবং রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বহুপাক্ষিকতা এবং রাষ্ট্রসংঘকে সমর্থন করা কোনও ‘আ লা কার্টে’ মেনু নয়, যেখানে সুবিধামতো বেছে নেওয়া যায়।”
তিনি পাকিস্তানের সমালোচনা করে বলেন, একদিকে আন্তর্জাতিক আইন এবং ইসলামি সংহতির কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে রমজান মাসে আফগানিস্তানের উপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। “এটি ভণ্ডামির প্রকৃষ্ট উদাহরণ,” মন্তব্য করেন হরিশ।
ভারতের প্রতিনিধি বলেন, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের প্রতিবেদনে বিমান হামলা, সীমান্তে গোলাগুলি এবং লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের হতাহতের বিষয়ে যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, ভারত তা পুনর্ব্যক্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে আহ্বান মহাসচিব জানিয়েছেন, ভারত তাকে সমর্থন করে।”
একইসঙ্গে ইউএনএএমএ-র সেই দাবিকেও সমর্থন জানায় ভারত, যেখানে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায় নির্ধারণ, ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আফগানিস্তানে ৩৭২ জন নিহত এবং ৩৯২ জন আহত হয়েছেন। অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বিমান হামলায়, পাশাপাশি সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ মার্চ কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি পুনর্বাসন হাসপাতালে চালানো একটি বিমান হামলায় অন্তত ২৬৯ জন নিহত এবং ১২২ জন আহত হন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ছিলেন হাসপাতালের রোগী।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ অভিযোগ করেন, মহাসচিবের প্রতিবেদনে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির দায় বাইরের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইউএনএএমএ-র রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তালিবানদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পাকিস্তান তাদের সামরিক পদক্ষেপকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
এর জবাবে পি. হরিশ বলেন, “গণহত্যাকে সামরিক অভিযান বলে সাজিয়ে তুললেও অপরাধীর দায় কমে না।”
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সাধারণ মানুষকে হত্যা করা, আহত করা এবং শিশুদের অনাথ করে দেওয়া কোনওভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হতে পারে না।”
ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন, “আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইউএনএএমএ যে কাজ করছে, ভারত তার ম্যান্ডেট ও ভূমিকার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়।”



















