নিজস্ব প্রতিনিধি, সোনামুড়া, ৫ জুন : সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়ার শ্রীমন্তপুর আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে এক ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং চেকপোস্টে যাত্রী হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগকারী আব্দুল মিয়ার বাড়ি মেলাঘর মহকুমার তেলকাজলা গ্রামে। তাঁর দাবি, বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে তিনি শ্রীমন্তপুর আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ইমিগ্রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে উল্লেখ করে যাত্রার অনুমতি দেননি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একই ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি এর আগে দু’বার বাংলাদেশ সফর করেছেন। তখন কোনও ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু এবার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে তাঁর নামে বাংলাদেশেও একটি পাসপোর্ট রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এমন আচরণে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে, শ্রীমন্তপুর আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক যাত্রীর দাবি, চেকপোস্টে প্রবেশের সময় জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে আসা-যাওয়া মিলিয়ে একজন যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৪০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
যাত্রীদের একাংশের দাবি, ‘ওয়াই-ফাই সুবিধা’ ও ‘গাড়ি পরিষেবা’র কথা বলে এই অর্থ নেওয়া হলেও বাস্তবে এসব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে শ্রীমন্তপুর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



















