মুর্শিদাবাদ, ২৯ মে (আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের পদক্ষেপের মধ্যে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী শুক্রবার প্রশ্ন তুললেন, কেন্দ্রে টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পরও এতদিন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে বিজেপি সরকারকে কী বাধা দিচ্ছিল?
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পর থেকেই রাজ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে সাময়িকভাবে অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হচ্ছে, পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর নিকটবর্তী সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) হস্তান্তর করে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাত থেকে হাকিমপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী স্বীকার করেন যে দেশে বহু দশক ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, সরকার চাইলে সবকিছুই করতে পারে। অসমে আমরা ডিটেনশন সেন্টারও দেখেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কতজন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে বা কতজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই।
সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই বিষয় নিয়ে এত আলোচনা ও প্রচারের পর সরকারের উচিত প্রকৃত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা, কতজন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে এবং কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, এনআরসি-সহ একাধিক আইন এই উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। আপনারাই (বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ) টানা তৃতীয়বার দেশের ক্ষমতায় রয়েছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীও আপনাদের দলের। তাহলে এতদিন বাংলাদেশিদের সরাতে আপনাদের কে বাধা দিচ্ছিল?
তবে একইসঙ্গে অধীর রঞ্জন চৌধুরী দাবি করেন, কেন্দ্রের উচিত এই বিষয়টিও পরিষ্কার করা যে কতজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিন্দু, কতজন মুসলিম, কতজনকে ‘পুশ ব্যাক’ করা হচ্ছে, কতজনকে আইনগতভাবে বহিষ্কার করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার কতজনকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজনও অনুপ্রবেশকারী ভারতে থেকে যাওয়া উচিত নয়। সরকারের উচিত এই বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি, ভারতে বর্তমানে কতজন অনুপ্রবেশকারী বসবাস করছেন, সেই তথ্যও সরকারের প্রকাশ্যে আনা উচিত।



















