মুম্বই, ২৯ মে (আইএএনএস) : দেশীয় বিনিয়োগ, সোনার মজুত এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জেরে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর ব্যালান্স শিট ২০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার প্রকাশিত আরবিআইয়ের বার্ষিক রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এক বছরে আরবিআইয়ের মোট সম্পদ ১৫.৭২ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে যেখানে ব্যালান্স শিটের আকার ছিল ৭৬.২৫ লক্ষ কোটি টাকা, তা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষে বেড়ে হয়েছে ৯১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা।
এর আগের অর্থবর্ষে আরবিআইয়ের ব্যালান্স শিট বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২ শতাংশ। নতুন বৃদ্ধির ফলে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৬.৪ শতাংশে পৌঁছেছে আরবিআইয়ের ব্যালান্স শিটের আকার।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই বৃদ্ধি মূলত তারল্য ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভ পরিচালনা এবং সম্পদের গঠনে পরিবর্তনের ফল।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশীয় বিনিয়োগ ৪৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সোনার মজুত বেড়েছে ৬৩.৮ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৯ শতাংশ।
৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত আরবিআইয়ের মোট সম্পদের ২৯.১ শতাংশ ছিল দেশীয় সম্পদ, যা আগের বছর ছিল ২৫.৭ শতাংশ।
অন্যদিকে বিদেশি মুদ্রা সম্পদ, সোনার মজুত এবং বিদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দেওয়া ঋণ ও অগ্রিম মিলিয়ে মোট সম্পদের ৭০.৯ শতাংশ ছিল। আগের বছরে এই হার ছিল ৭৪.৩ শতাংশ। এর অর্থ, বিদেশি সম্পদের তুলনায় দেশীয় সম্পদের বৃদ্ধি অনেক বেশি হয়েছে।
দায় বা লায়াবিলিটির ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়ন হিসাব, জারি করা নোট, আমানত এবং অন্যান্য দায় সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে আরবিআই।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পুনর্মূল্যায়ন হিসাব ৬৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জারি করা নোট বেড়েছে ১১.৮ শতাংশ, আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ১১.৬ শতাংশ এবং অন্যান্য দায় বেড়েছে ২১.১ শতাংশ।
গত কয়েক বছরে আরবিআইয়ের ব্যালান্স শিট ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের শেষে ব্যালান্স শিটের আকার ছিল ৬৩.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয় ৭০.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পৌঁছায় ৭৬.২৫ লক্ষ কোটি টাকায়। সেখান থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৯১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এছাড়াও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আরবিআই কনটিনজেন্সি ফান্ডে ১.০৯ লক্ষ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছে। আরবিআই জানিয়েছে, তাদের ‘ইকোনমিক ক্যাপিটাল ফ্রেমওয়ার্ক’-এর অধীনে এই সংস্থান করা হয়েছে।
তবে এই অর্থবর্ষে অ্যাসেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে কোনও অর্থ স্থানান্তর করা হয়নি।
আরবিআইয়ের বক্তব্য, “১,০৯,৩৭৯.৬৪ কোটি টাকার সংস্থান করে তা কনটিনজেন্সি ফান্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আরবিআইয়ের ইকোনমিক ক্যাপিটাল ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী কনটিনজেন্ট রিস্ক বাফার ব্যালান্স শিটের ৪.৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়।
এর পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্র সরকারকে প্রায় ২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা করেছে আরবিআই। চলমান পশ্চিম এশিয়া সংকটের কারণে উদ্ভূত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই অর্থ কেন্দ্রের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



















