লখনউ, ২৭ মে (আইএএনএস): শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে নতুন করে জোর দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। রাজ্যের সমস্ত সহ-অবস্থিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং বলবাটিকায় বড় আকারে কার্যভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
তিন থেকে ছয় বছর বয়সি শিশুদের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ‘চহক-১, ২ ও ৩’, ‘কদম’, ‘কলাঙ্কুর’, বিগ বুক, সামগ্রিক রিপোর্ট কার্ড এবং বলবাটিকা বুকলেট।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই উদ্যোগ ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির (এনইপি) ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন শিক্ষানীতিতে শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ এবং শিক্ষার ভিত্তি গঠনে আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশন-কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় উত্তরপ্রদেশের সমস্ত সহ-অবস্থিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং বলবাটিকায় বয়সভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১২ ধরনের বিগ বুক, বলবাটিকা হ্যান্ডবুক, শিক্ষণ চার্ট এবং সামগ্রিক রিপোর্ট কার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের দাবি, লক্ষ লক্ষ শিশুর কাছে মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এর আগে স্মার্ট ক্লাসরুম, ‘অপারেশন কায়াকল্প’, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ এবং ‘নিপুণ ভারত মিশন’-এর মাধ্যমে স্কুলশিক্ষায় একাধিক সংস্কার এনেছে রাজ্য সরকার। এবার সেই বৃহত্তর শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ এবং সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশুদের এই প্রকল্প থেকে বেশি উপকার হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। ছোটবেলা থেকেই তাদের কাঠামোবদ্ধ এবং কার্যভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকার তিন থেকে ছয় বছর বয়সকে শিশুদের মানসিক, ভাষাগত এবং সামাজিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই খেলাধুলাভিত্তিক ও শিশু-কেন্দ্রিক শিক্ষাপদ্ধতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘চহক’ সিরিজ মূলত শিশুদের ভাষা, শ্রবণ এবং কথোপকথনের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘কদম’ এবং ‘কলাঙ্কুর’-এর মাধ্যমে সৃজনশীলতা, কৌতূহল এবং বৌদ্ধিক বিকাশে উৎসাহ দেওয়া হবে।
এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির জন্য ‘কিতাব বিতরণ অ্যাপ’ চালু করেছে রাজ্য সরকার। এই অ্যাপের মাধ্যমে কোন বলবাটিকায় শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছেছে, তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এর ফলে বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



















