পাটনা, ২৫ এপ্রিল (আইএএনএস): বিহারের নওয়াদা জেলাকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অপহরণ ও তোলাবাজির অভিযোগে চার পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। শনিবার এক পুলিশ আধিকারিক এই তথ্য জানিয়েছেন।
জামুই জেলার নগর থানার ওসি জানান, শুক্রবার অভিযান চালিয়ে নওয়াদা আবগারি দফতরের চার কর্মীকে গ্রেফতার করে জামুই পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কাউয়াকোল চেকপোস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই সুজিত কুমার, এএসআই দিলীপ কুমার এবং পাকরিবারাওয়ান আবগারি থানায় কর্মরত দুই হোমগার্ড জওয়ান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কাউয়াকোল থানার অন্তর্গত মহুলিয়া টান্ড এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে গাড়ি তল্লাশির সময় একটি ক্রেটা গাড়ি আটক করেন আবগারি আধিকারিকরা। গাড়িতে থাকা তিন ব্যক্তিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ।
তাঁদের পাকরিবারাওয়ান আবগারি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়, যখন আটক ব্যক্তিদের একজন সন্তোষ কুমার ফোনে তাঁর পরিবারকে জানান যে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তির জন্য ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে নওয়াদায় আসতে বলেন।
এরপর জামুই জেলার নরওয়াদা গ্রামের বাসিন্দা তাঁর ভাই পিন্টু কুমার জামুই নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার নগদ টাকা নিয়ে নওয়াদায় পৌঁছন।
অভিযোগ, ক্রেটা গাড়িটি ছাড়ানোর জন্য পাকরিবারাওয়ান আবগারি থানায় ১.৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে জামুই সিটি পুলিশ। মামলা নং ১৯৩/২৬ রুজু করে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত চলাকালীন এএসআই দিলীপ কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১.৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি প্রমাণ হিসেবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ক্রেটা গাড়িটিও। এরপর চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে জামুই থানায় আনা হয়।
এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইনরক্ষকদের বিরুদ্ধেই অপহরণ ও তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকা ও জবাবদিহি।



















