ইম্ফল, ২৫ এপ্রিল (আইএএনএস) : মণিপুরের উখরুল জেলায় ভয়াবহ সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে। শনিবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দোষীদের ধরতে তল্লাশি চলছে এবং নতুন করে হিংসা ছড়ানো রুখতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার লিটান থানার অন্তর্গত মুল্লাম গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলির লড়াই হয়। ঘটনায় নিহত হয়েছেন পাওমিনলুন হাওলাই (২২), লেটলাল সিটলহৌ (৪১) এবং হোরশোকমি জামাং (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, হাওলাই ও সিটলহৌ কুকি সম্প্রদায়ের এবং জামাং তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। তাঁরা যথাক্রমে চুরাচাঁদপুর, কাঙ্গপোকপি ও কামজং জেলার বাসিন্দা ছিলেন। সংঘর্ষে মুল্লাম গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন। তিনি বলেন, “নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা মানবিকতার পরিপন্থী এবং সমাজের মূল কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি সব পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “এই সংকটের সময়ে সকল সম্প্রদায়ের কাছে আমার আবেদন—সংযম বজায় রাখুন। হিংসা কোনও সমাধান দেয় না, বরং ক্ষত আরও গভীর করে এবং উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করে।”
এদিকে থাদৌ ইনপি মণিপুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ১৯৯০-এর দশকের কুকি-নাগা সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সংগঠনটি সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে থাদৌ সম্প্রদায়কে নিরপেক্ষ থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
অন্যদিকে চান্দেল জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী খুমকোট গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একাধিক রাইফেল, গ্রেনেড, ডিটোনেটর ও যোগাযোগ যন্ত্র।
এছাড়া চুরাচাঁদপুর জেলার সেঙ্গুই গ্রাম থেকে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে আসাম রাইফেলস। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর জেরে তাঁর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় জেলা প্রশাসনের অনুরোধে মধ্যরাতে এই অভিযান চালানো হয়। পরে তাঁকে নিরাপত্তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুরো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


















