গুয়াহাটি, ৯ জুন (আইএএনএস): অসম সরকারের কর্মী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) ২ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ডিএ এবং ডিআর-এর হার ৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের ৮ লক্ষেরও বেশি কর্মী ও পেনশনভোগী উপকৃত হবেন বলে জানা গিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী শর্মা লিখেছেন, রাজ্য সরকারের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা অসমের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের কল্যাণ ও আর্থিক সুরক্ষার প্রতি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, “আমাদের কর্মী ও পেনশনভোগীরা অসমের উন্নয়নের যাত্রায় মূল্যবান অংশীদার। তাঁদের আরও সহায়তা করতে অসম মন্ত্রিসভা ডিএ ও ডিআর ২ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে জুলাই থেকে এই হার ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশ হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্ধিত ভাতার অর্থ জুলাই মাস থেকেই কর্মী ও পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে, যা ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে তাঁদের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেবে।
সরকারি সূত্রের মতে, মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলা করে কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে এই ডিএ ও ডিআর বৃদ্ধি করা হয়েছে।
যদিও এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তবুও লক্ষাধিক উপভোক্তার জন্য এটি বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) প্রদান করা হয় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সরকার এই হার সংশোধন করে থাকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কর্মীদের কল্যাণ, সময়মতো বেতন, পেনশন এবং অবসরকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে অসম সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা রাজ্যের প্রশাসন এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁদের কল্যাণে সরকার ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
জুলাই মাস থেকে নতুন হার কার্যকর হলে অসমে ডিএ ও ডিআর-এর পরিমাণ ৬০ শতাংশে পৌঁছবে এবং ৮ লক্ষেরও বেশি কর্মী ও পেনশনভোগী এর সুবিধা পাবেন।
— আইএএনএস
























