ঢাকা, ২৫ এপ্রিল(আইএএনএস): হাম টিকার সংকটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নিলে বহু বছরের অর্জন অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে টিকাকরণের হার নেমে এসেছে প্রায় ৬০ শতাংশে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অথচ ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই হার ছিল ৮৫ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের এক্সপ্যান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনাইজেশন দীর্ঘদিন ধরে একটি সফল জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত ছিল। সরকারি প্রতিশ্রুতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই কর্মসূচি টিকাদানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। তবে এখন সেই কাঠামো ভেঙে পড়ার মুখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণের হার এতটা কমে যাওয়া শুধু সরবরাহগত সমস্যা নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত। টিকা কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজন সমন্বিত ক্রয় ব্যবস্থা, স্থিতিশীল অর্থায়ন, কার্যকর নেতৃত্ব এবং পর্যাপ্ত জনবল—যার একাধিক ক্ষেত্রেই ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাতের কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) ভেঙে দেওয়ার পর কোনও কার্যকর বিকল্প কাঠামো তৈরি হয়নি, যা একটি বড় নীতিগত ভুল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া ৩৭টি জেলায় ইপিআই-এর প্রায় ৪৫ শতাংশ মাঠপর্যায়ের পদ খালি রয়েছে। প্রায় ১.৫ লক্ষ টিকাকেন্দ্র এই কর্মীদের উপর নির্ভরশীল। ফলে জনবল সংকটের কারণে টিকাকরণের হার কমে যাওয়া স্বাভাবিক। একইসঙ্গে কোল্ড-চেইন বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মাসের পর মাস বেতন না মেলায় অসন্তোষ ও ধর্মঘটের ঘটনাও ঘটেছে।
রিপোর্টে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সুসংহত করা, শূন্যপদ পূরণ, গবেষণা ও নজরদারিতে বিনিয়োগ এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করা জরুরি।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে, যার আর্থিক ও মানবিক মূল্য অনেক বেশি হবে।


















