ইম্ফল, ২৪ এপ্রিল (আইএএনএস): মণিপুরের উখরুল জেলায় শুক্রবার নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, সহিংসতাপ্রবণ এই জেলায় মুল্লাম গ্রামের কাছে একটি ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী দুটি দেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের পরিচয় এল. সিটলহৌ এবং পি. হাওলাই হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গায়ে ছদ্মবেশী পোশাক ছিল এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়।
উখরুল জেলা নাগাল্যান্ডের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এবং মায়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে, যেখানে প্রধানত তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের বাস।
শুক্রবার সকালে মুল্লাম গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিদের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয় এবং পাহাড়ি এই গ্রামে একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
কুকি উইমেন অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত সশস্ত্র হামলা” বলে নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছে, তাংখুল নাগা গোষ্ঠীর জঙ্গিরা পরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র কুকি গ্রামবাসীদের উপর হামলা চালায়। সংগঠনের অভিযোগ, হামলায় মহিলাসহ বহু গ্রামবাসী আহত হন এবং গ্রাম রক্ষায় থাকা দুই স্বেচ্ছাসেবক নিহত হন।
তবে অপরদিকে তাংখুল নাগাদের শীর্ষ সংগঠন তাংখুল নাগা লং জানিয়েছে, সিনাকেইথেই গ্রামে কুকি জঙ্গিদের গুলিতে নাগা ভিলেজ গার্ডের সদস্য হরশোকমি জামাং (২৯) নিহত হয়েছেন।
নাগা ভিলেজ গার্ড (এনভিজি)-র পক্ষ থেকে কুকি গ্রামে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, টহলদারি চলাকালীন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে তাদের সদস্য নিহত হন এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হন। পরে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে উখরুল জেলায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটছে, যা এলাকাটিকে রাজ্যের অন্যতম অশান্ত অঞ্চলে পরিণত করেছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল ইতিমধ্যেই ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে নাগা অধ্যুষিত এলাকায় সর্বাত্মক বন্ধের ডাক দিয়েছে।
এছাড়া গ্লোবাল নাগা ফোরাম-ও সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা মণিপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।



















