ইম্ফল, ২৪ এপ্রিল (আইএএনএস): মণিপুরের উখরুল জেলায় শুক্রবার দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গুলিবিনিময়ে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষটি ঘটে সিনাকেথেই ও মুল্লাম গ্রামের মধ্যে।
ইম্ফলের এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে তিনজন কুকি সম্প্রদায়ের এবং তিনজন নাগা সম্প্রদায়ের সদস্য।
তিনি আরও জানান, কুকি অধ্যুষিত মুল্লাম গ্রামটি উখরুল জেলার একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা, যা চারদিকে নাগা অধ্যুষিত গ্রাম দ্বারা বেষ্টিত। অপরদিকে সিনাকেথেই গ্রামটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মুল্লাম গ্রামের কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের গ্রাম “তাংখুল জঙ্গি”দের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। অভিযোগ, শুক্রবার ব্যাপকভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়, যা তাংখুল নাগা জঙ্গিদের দ্বারা সংঘটিত।
অন্যদিকে, কুকি মানবাধিকার মহিলা শাখা (কুকি উইমেন অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “নির্মম ও অপ্ররোচিত” বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনের দাবি, প্রথমে ফাঁকা গুলি চালিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়, তারপর পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নির্বিচারে গুলিবর্ষণে ৬ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, জাতিগত হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ (আইডিপি)-রা চুরাচাঁদপুর জেলায় শুক্রবার বিক্ষোভে সামিল হন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজন টুইবংয়ের ‘ওয়াল অফ রিমেমব্র্যান্স’-এ জড়ো হয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীরা “ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ২০২৯ পর্যন্ত বাড়াও”, “শিবিরে ও শিবিরের বাইরে থাকা আইডিপিদের সমান সুবিধা দাও”, “বৈষম্য চলবে না” প্রভৃতি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নেন।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়, যা চুড়াচাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দূর্যোগ মোকাবিলা আইন, ২০০৫ এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ত্রাণ ব্যবস্থা অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন হতে হবে এবং সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
এই ঘটনায় মণিপুরের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।



















