আগরতলা, ২০ এপ্রিল: সীমান্তবর্তী এলাকায় নেশা কারবারিদের দৌরাত্ম্য রুখতে আবারও বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। আসামের চুড়াইবাড়িতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের মাঝেই চালকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি হয়ে আসা এএস০১আরসি২৪৯৫ নম্বরের একটি ছয় চাকার কন্টেনার লরি বাজারিছড়ার চুড়াইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে পৌঁছায়। আগাম গোপন সূত্রে খবর ছিল, ওই গাড়িতে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচার করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং লরিটিকে আটক করা হয়।
তবে আটক করার পরই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ‘কন্টেনার খুলে দেখানোর’ অজুহাতে চালক মুহূর্তের মধ্যে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পরদিন সোমবার সকালে পুলিশ সুপার অর্ণিবান শর্মার উপস্থিতিতে গেট ইনচার্জ নিরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে লরিটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হয় দুইটি কাঠের বাক্সভর্তি মোট ৩,৬০০ বোতল অবৈধ ‘এস্কাফ’ কফ সিরাপ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নেশা বিরোধী অভিযানে শ্রীভূমি জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ইতিমধ্যেই পলাতক চালককে ধরতে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশের সাফল্যে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, অন্যদিকে বারবার এমন পাচারের ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে—কেন এখনও পুরো চক্রটিকে সম্পূর্ণভাবে ধরতে পারছে না প্রশাসন।



















