নয়াদিল্লি, ২০ এপ্রিল (আইএএনএস): ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার এই সময়ে ভারত ও কোরিয়া একসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে। আমরা খুশি যে আজ কোরিয়া আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর উদ্যোগ-এ যোগ দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দুই দেশই মনে করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
প্রেসিডেন্ট লি-কে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর এবং এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। গত এক দশকে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক আরও গতিশীল ও বহুমুখী হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দুই দেশ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদার করতে আমরা একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোঅপারেশন কমিটি গঠন করেছি। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইনে সহযোগিতা বাড়াতে ইকোনমিক সিকিউরিটি ডায়ালগ শুরু হবে।”
ভারতে কোরিয়ান সংস্থাগুলির বিনিয়োগ সহজ করতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ গড়ে তোলার কথাও জানান মোদি। পাশাপাশি, আগামী এক বছরের মধ্যে ভারত-কোরিয়া বাণিজ্য চুক্তি আপগ্রেড করা হবে বলেও তিনি জানান।
সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও কোরিয়ার হাজার বছরের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। অযোধ্যার রাজকুমারী সুরিরত্না ও কোরিয়ার রাজা কিম সুরোর কাহিনি আমাদের যৌথ ঐতিহ্যের অংশ। বর্তমানে ভারতে কে-পপ ও কে-ড্রামার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, একইভাবে কোরিয়াতেও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।”
এই সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও মজবুত করতে ২০২৮ সালে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া ‘ফ্রেন্ডশিপ ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।



















