আগরতলা, ১৬ এপ্রিল: দারিদ্রতা কোনও বাধা নয়, প্রমাণ করে দিল খোয়াইয়ের সোনাতলা এলাকার ছাত্র পীযূষ দাস। গৃহশিক্ষক বাবার স্বল্প উপার্জনে কোনোরকমে চলে সংসার, তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে সিবিএসই পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৭.৫ শতাংশ নম্বর অর্জন করে সকলের মুখ উজ্জ্বল করেছে সে।
পীযূষের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রামের গল্প। তার বাবা বিপ্লব দাস একজন গৃহশিক্ষক, মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা উপার্জন করে কোনোরকমে সংসার চালান এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগান। অন্যদিকে, তার মা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি বাড়িতে পর্যাপ্ত পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধাও ছিল না।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই পীযূষ নিজের লক্ষ্য স্থির রেখে প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি সে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম-এর সাহায্য নিয়েছে এবং ইংরেজি ও জীববিজ্ঞানের জন্য দুইজন গৃহশিক্ষকের কাছ থেকেও দিকনির্দেশনা পেয়েছে।
পাশাপাশি, তার স্কুলের শিক্ষিকা সঞ্চিতা দাসের অবদানও সে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। শিক্ষিকার উৎসাহ ও দিকনির্দেশনাই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানায় পীযূষ। নিজের এই সাফল্য সে শিক্ষিকার উদ্দেশেই উৎসর্গ করেছে।
ফল প্রকাশের পর থেকেই সোনাতলা এলাকায় খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। আত্মীয়-পরিজন ও প্রতিবেশীরা পীযূষের এই সাফল্যে আনন্দে মেতে উঠেছেন। তাদের মতে, দারিদ্রতা কখনোই প্রকৃত মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারে না—পীযূষ তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
ভবিষ্যতে একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় পীযূষ। তার লক্ষ্য, বড় হয়ে একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। ছেলের স্বপ্ন পূরণে বাবা এখনও নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। পাশাপাশি, এই মেধাবী ছাত্রকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় মানুষজনও পাশে দাঁড়িয়েছেন।
পীযূষের এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প আজ গোটা ত্রিপুরার বহু পরিবারের কাছে এক আশার আলো হয়ে উঠেছে।



















