নয়াদিল্লি, ১৪ এপ্রিল (আইএএনএস): দেশে জাল নোট উদ্ধার বৃদ্ধির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মধ্যে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দাউদ ইব্রাহিম-ঘনিষ্ঠ চক্র এখন সীমান্তপথে পাচারের বদলে ভারতে বসেই জাল নোট ছাপার দিকে ঝুঁকছে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত এই চক্র তাদের ভারতীয় সহযোগীদের নির্দেশ দিচ্ছে ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে স্থানীয়ভাবে জাল নোট ছাপাতে এবং বাজারে ছড়িয়ে দিতে। এতে একদিকে নজর এড়ানো সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে সামগ্রিক উৎপাদনও বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
একজন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিক জানান, “ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে চক্রের সদস্যরা ঘন ঘন ঘাঁটি বদল করছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনও কেন্দ্র চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
সীমান্তে কড়া নজরদারির ফলে বাংলাদেশ রুট দিয়ে জাল নোট ঢোকানো এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। এর জেরে চক্রটি এখন গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং পঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে ছাপার কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় একসময় এই চক্রের একটি বড় ঘাঁটি ছিল, যেখানে উচ্চমানের জাল নোট তৈরি হত। তবে সেটি ধরা পড়ার পর ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-সহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে সেখানে উৎপাদন অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
সূত্রের দাবি, মালদহে জাল নোট তৈরির ক্ষমতা এখন আগের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। তবে নতুন করে কাঁচামাল পাচারের চেষ্টা চলছে, যা সফল হলে আবার উৎপাদন বাড়তে পারে।
এদিকে, সীমান্ত দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে জাল নোট ঢোকানোর ঘটনাও বাড়ছে। গত মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও অমৃতসর পুলিশ যৌথভাবে প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে, যা ‘ট্রায়াল রান’ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংস্থাগুলির মতে, এখন ছোট ছোট চালানে জাল নোট পাঠানো হচ্ছে, যা রাডার বা নজরদারি ব্যবস্থায় ধরা পড়া কঠিন। একই সঙ্গে বিভিন্ন নতুন পদ্ধতিও ব্যবহার করছে চক্রটি।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এই জাল নোট চক্রের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান দেওয়াও।
— আইএএনএস



















