নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৪ এপ্রিল:
উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা যেন এক রাতেই আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। মাছ ধরতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না জমির উদ্দিনের (৪৬)। শনিবার সকালে পুকুরের জলে তার বিকৃত দেহ উদ্ধার হতেই রক্ত হিম করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ তিনি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সেই সময় তিনি একই এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক মহিলার বাড়িতে যান। এরপরই শুরু হয় রহস্যঘেরা নিখোঁজের ঘটনা।পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ, রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পরই পরিকল্পিতভাবে তার উপর চালানো হয় বর্বরোচিত হামলা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে এবং মুখমণ্ডল থেঁতলে নির্মমভাবে খুন করা হয় তাকে। শুধু খুনই নয়—অপরাধের প্রমাণ লোপাট করতে দেহটি পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
শনিবার ভোর হতেই রক্তাক্ত এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ জনতার ঢল নামে এলাকায়। রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তের দাগ আতঙ্ককে আরও ঘনীভূত করে তোলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কদমতলা থানার পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক গুরুপদ দেবনাথ। পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার করা হলে প্রথমে তা শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ মুখে ছিল চরম বিকৃতির ছাপ।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দেহ শনাক্ত করা হয়। এরপর ডগ স্কোয়াড নামিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সূত্র হাতে আসেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার এক মহিলা ও তার যুবক পুত্রকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মুখ খুলতে নারাজ। মৃতের পরিবার সরাসরি অভিযোগ তুলেছে—এটি একটি ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার জানিয়েছেন, “ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই ঘটনার আসল চিত্র সামনে আসবে। স্থানীয় সূত্রে ইঙ্গিত, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অবৈধ সম্পর্কজনিত জটিলতা থাকতে পারে। যদিও পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।
একটি সাধারণ রাত—আর সেই রাতই ছিনিয়ে নিল একটি প্রাণ। কদমতলায় এখন আতঙ্ক, ক্ষোভ আর শোকের ভারী ছায়া।



















