ওয়াশিংটন, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এখন আর প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন না; বরং সামাজিক মাধ্যমকেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তিনি ক্ষমতায় না থাকলে বহু সংবাদমাধ্যম দর্শক ও পাঠক হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়বে।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছনোর কৌশলের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “আমি প্রথাগত সংবাদমাধ্যমকে ছেড়ে দিয়েছি। টিকটকে আমি এক নম্বরে।” ট্রাম্পের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছে যে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর না করেও মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব।
ট্রাম্প আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের পাঠকসংখ্যা ও টেলিভিশনের টিআরপি অনেকটাই তাঁকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়। তাঁর কথায়, “তোমরা জানোই না কতটা ভাগ্যবান। আমি চলে গেলে তোমাদের সবাইকে দেউলিয়া হতে হবে। তখন আর খবর করার মতো কেউ থাকবে না। অন্য কাউকে নিয়ে মানুষের কোনও আগ্রহ নেই।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের বর্তমান সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর একসময় তাঁর অভিযোগ ছিল, সাংবাদিকরা আর যোগাযোগ করছেন না। পরে তিনি নিজেই নিজের মোবাইল নম্বর সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে দেন।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সাংবাদিকদের আমার ফোন নম্বর দিয়ে দিই। জীবনের সবচেয়ে বোকামির কাজ সেটাই করেছি।” তাঁর দাবি, এখন প্রতি ৩.৭ মিনিট অন্তর সাংবাদিকদের ফোন আসে। তিনি সাংবাদিকদের ফোন করার সময় নিজেদের পরিচয় দেওয়ারও পরামর্শ দেন। তাঁর কথায়, নাম না থাকলে তিনি ফোন ধরতে পারেন না।
ট্রাম্প বলেন, তিনি অনেক সময় সাংবাদিকদের ফোন ধরেন, কারণ তাঁর বিশ্বাস, সরাসরি কথা বললে সংবাদ পরিবেশন আরও নির্ভুল হয়। “সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললে সাধারণত খারাপ খবরই প্রকাশিত হয়। আর কথা বললে অন্তত ভালো খবর হওয়ার একটা সুযোগ থাকে,” বলেন তিনি।
যদিও বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেন, তবুও ট্রাম্প দাবি করেন যে তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “এই ঘরে উপস্থিত সবার চেয়ে আমিই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বেশি বিশ্বাস করি। হয়তো না।”
নিজেকে “ইতিহাসের সবচেয়ে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রেসিডেন্ট” বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করে বলেন, বাইডেন খুব কমই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের পেশার প্রতি সম্মানও জানান। তিনি বলেন, “এই ঘরে উপস্থিত মানুষদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। অনেক সময় মনে হয় আপনারা আমার সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করেন না। তবে অনেক সময় খুবই ন্যায্য আচরণও করেন। আপনাদের পেশার প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান রয়েছে।”
এর আগে অনুষ্ঠানে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, তিনি নাকি “৯৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রচার” পান। এ সময় তিনি সিএনএনের সাংবাদিক ক্যাটলিন কলিন্স-সহ কয়েকজন সাংবাদিক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে হালকা মেজাজে মন্তব্য করেন এবং সাংবাদিকতায় পুরস্কার পাওয়ার জন্য কলিন্সকে অভিনন্দনও জানান।
অন্যদিকে, ট্রাম্পকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগে বিদায়ী হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওয়েইজিয়া জিয়াং বলেন, সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দুর্বল করার চেষ্টা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার জন্য হুমকি হতে পারে।



















