নয়াদিল্লি, ৬ ফেব্রুয়ারি : বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজের দায়ের করা আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে শীর্ষ আদালত শুনানি করতে রাজি নয়।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিহার নির্বাচনে জন সুরাজ প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ২৩৮টি আসনে লড়ে একটিও আসন জিততে পারেনি। ওই নির্বাচনে জনতা দল (ইউনাইটেড) ও বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছিল জন সুরাজ। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি তীব্র মন্তব্য করে বলেন, আপনাদের দল কত ভোট পেয়েছে? মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, আর এখন এই বিচারিক মঞ্চকে প্রচারের জন্য ব্যবহার করতে চাইছেন?
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচিও জন সুরাজের আইনজীবীদের প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা ক্ষমতায় এলে কি একই কাজ করবেন না? একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীদের বিহার হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। বেঞ্চের মন্তব্য, এটি সর্বভারতীয় কোনও বিষয় নয়। রাজ্যে হাইকোর্ট রয়েছে, সেই প্রতিকার গ্রহণ করুন।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা আবেদনে জন সুরাজ অভিযোগ করেছিল, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় রাজ্য সরকার প্রতি পরিবারে একজন মহিলাকে ১০,০০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নীতির পরিপন্থী। দলের দাবি ছিল, এই সুবিধা ২৫ থেকে ৩৫ লক্ষ মহিলা ভোটারকে দেওয়া হয়েছে এবং তা শাসক দলের ‘দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ’-এর শামিল।
জন সুরাজের পক্ষে সওয়াল করে সিনিয়র আইনজীবী সিইউ সিং বলেন, আমি শুধু দুর্নীতিপূর্ণ আচরণের কথাই বলছি না, গোটা রাজ্য জুড়ে আদর্শ আচরণবিধি ভাঙার বিষয়টিও বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় পড়ে। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নির্বাচনে দেখাতে হবে যে কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থী এই সুবিধা পেয়ে লাভবান হয়েছে এবং সেটাই দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী ‘ফ্রি-বি’ বা আর্থিক প্রতিশ্রুতির বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন। আদালত আগেই মন্তব্য করেছে, রাজনৈতিক দলের আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি রাজ্যগুলিকে আর্থিক দেউলিয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিষয়টি তিন বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শুক্রবার আদালত জানায়, আমরা এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তবে এমন আবেদনকারীর বক্তব্য শুনতে চাই, যাঁরা জনস্বার্থে কাজ করেন, এমন কোনও দলের নয় যারা সবকিছুতেই পরাজিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিজেপি ও জেডিইউ-এর জন্য অতীতে একাধিক নির্বাচনী সাফল্যের রূপকার প্রশান্ত কিশোর নিজেই প্রথম নির্বাচনে ‘ডুবে যাও বা ভেসে ওঠা’র ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই পূর্বাভাসের দ্বিতীয় অংশই সত্যি হয়। ভোটগণনার শুরুতে জন সুরাজ চারটি আসনে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনও আসন জিততে পারেনি এবং দলের ভোট শতাংশ চার শতাংশেরও নিচে নেমে যায়।



















