“আফগানিস্তানের অগ্রগতি ও উন্নয়নে ভারতের গভীর আগ্রহ”: তালিবান সরকারের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতে জয়শঙ্কর

নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর শুক্রবার আফগানিস্তানের তালিবান-নিয়ন্ত্রিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি ২০২১ সালে তালিবান কাবুলের দখল নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

নয়াদিল্লিতে মুত্তাকিকে স্বাগত জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেন,“আমরা আপনাকে এবং আপনার প্রতিনিধি দলকে ভারতে স্বাগত জানাই। এই সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাহেলগামের হামলা ও আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের সময় আমাদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তবে সরাসরি সাক্ষাৎ সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে।”

তিনি আরও বলেন, ভারত একটি প্রতিবেশী দেশ ও আফগান জনগণের মঙ্গলকামী হিসেবে আফগানিস্তানের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গভীর আগ্রহ রাখে।

এই বৈঠকের সময় একটি বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, কাবুলে ভারতের কারিগরি মিশনের স্তর উন্নীত করে সম্পূর্ণ দূতাবাসে রূপান্তর করা হবে। ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আফগানিস্তানের জাতীয় উন্নয়ন ও এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে,” — বলেন জয়শঙ্কর।

উল্লেখযোগ্য যে, আমির খান মুত্তাকি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকাভুক্ত তালিবান নেতাদের একজন। তবে এই সফরের জন্য তিনি সাময়িক ভ্রমণ ছাড়পত্র পেয়েছেন।

নয়াদিল্লি সফরের আগে তিনি রাশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন যেখানে ভারত, চীন, পাকিস্তান, ইরান ও মধ্য এশিয়ার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ তালিবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। যদিও ভারত এখনও তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে এই কূটনৈতিক অগ্রগতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত স্বার্থে দিল্লি আফগানিস্তানের সঙ্গে নতুনভাবে যোগাযোগ গড়ে তুলতে আগ্রহী।