তীব্র পানীয় জলের সঙ্কট ডিমা হাসাও জেলা সদর হাফলঙেঅনিয়মিতভাবে আড়াই হাজার লিটার জল এক হাজার টাকায় বিক্রি

হাফলং (অসম), ২১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : অসমের অন্যতম পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাওয়ের শৈল শহর হাফলঙে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শহরের সর্বত্র জলের জন্য হাহাকার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হাফলং শহরের বিভিন্ন এলাকায় গত এক দেড় মাস থেকে পানীয় জল সরবরাহ করেনি জনস্বাস্থ্য কারাগরি বিভাগ। যার দরুন পানীয় জলের সমস্যা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। বৃহত্তর হাফলং শহরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের উৎস স্থল থেকে জল সরবরাহ করা হয় সে সব উৎস স্থল শুকিয়ে গেছে। যার দরুন জনস্বাস্থ্য বিভাগ জল সরবরাহ করতে পারছে না হাফলং শহরে। জলের উৎস স্থল পাহাড়ি নদী শুকিয়ে যাওয়ার দরুন ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্টগুলিতে জল তুলতে পারছে না জনস্বাস্থ্য করিগরি বিভাগ। তাই শহর এলাকায় জল সরবরাহ করতে পারছে না বিভাগ। আর এতেই সমস্যা বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে বৃষ্টি না হওয়ায় জলের উৎস স্থল পাহাড়ি নদী সব শুকিয়ে গেছে। তাই হাফলং শহরে জল অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শহরের নাগরিকদের এখন প্রতি আড়াই হাজার লিটার জল এক হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। কিন্তু তা-ও সময় মতো পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কারণ জাটিঙ্গা জল আনার জন্য গাড়ি মালিকদের দীর্ঘ লাইনে বসে থাকতে হয়। তাই জল কেনার জন্য এ সব গাড়ি মালিকদের সঙ্গে জলের জন্য দু-তিনদিন আগে থেকে যোগাযোগ করতে হয়, তা-হলেই সময় মতো মিলবে জল।

এদিকে জলের সমস্যা মেটানোর জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও হাফলং শহরে আজ অবধি জল-সমস্যার সমাধান হয়নি। এই অবস্থায় বৃষ্টি না হলে হাফলং শহরে জলের সমস্যা মেটানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, জলের উৎসস্থলগুলি শুকিয়ে পড়ার জেরে হাফলং শহরে জল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যা মেটানো হবে তা স্পষ্ট করে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এই অবস্থায় জলের সমস্যা সমাধানে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ বা উত্তর কাছাড় পার্বত্য পরিষদ বিশেষ কোনও বিকল্প ব্যবস্থা জলের প্রকল্প হাতে না নেয় তা-হলে আগামী দিনেও যে হাফলং শহরে জলের জন্য এক ভয়ানক পরিস্থির সৃষ্টি হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত।