কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : নেই উন্নয়নের প্যাকেজ, নেই কর্মসংস্থানের কথা। বুধবার অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রাজ্য বাজেট পেশ করার পর এমনটাই বললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে শুধুমাত্র আসন্ন ভোটের কথা মাথায় রেখেই এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রেড মিলে ৩০ মিনিটে বাজেট তৈরি করেছেন বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘কাঁচা কাজ হয়েছে।’ ‘এই বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের যে সব জ্বলন্ত ইস্যু আছে, মানুষের যে আকঙ্খা আছে, তা পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। রাজ্যের অর্থনৈতিক দেউলিয়া অবস্থার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।’ ‘কিছুটা ভোটমুখী করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কাঁচা কাজ হয়েছে। সামগ্রিকভাবে আমাদের রাজ্যে যে বিষয়গুলো সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেমন- রাস্তা, বিমানবন্দর, সেতু, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা বাজেটে রাখা হয়নি।’
কর্মসংস্থান নিয়ে বলেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শূন্যপদ রয়েছে, তা কীভাবে পূর্ণ করা হবে, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ফিরিয়ে আনা হবে কি না, ২ কোটির বেশি বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের দিশা কী হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।’ ‘সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করার কথা বলা হয়নি।’ ‘ভিলেজ পুলিশ, হোমগার্ড, সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে কোনও অর্থ বরাদ্দ বা সাম্মানিক বৃদ্ধির কথা বলা হয়নি। কেবল যাঁরা আগে আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বেতন ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি বলেন,‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আয়ুস্মান ভারত চালু করা হবে কি না, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে এখনও পর্যন্ত কতজন পরিষেবা পেয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাবে কি না তা জানানো হয়নি। স্বাস্থ্যের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের বাইরের রাজ্যে যাওয়ার যে লম্বা লাইন, সেটা আরও দীর্ঘ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।’
এদিন চা বাগান প্রসঙ্গে বলেন, বাজেটে ‘চা বাগানে পাট্টা দেওয়ার কথা আবার বলা হয়েছে। কিন্তু চা বাগান প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, শাসক দলের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের বাণিজ্যে সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। পাট্টা দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট উল্লেখ রাখা হয়নি।’ ‘এই রাজ্যের উত্তরবঙ্গ, সুন্দরবন, জঙ্গল মহল, রাঢ়বঙ্গ ও উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলির জন্য কোনও প্যাকেজের ঘোষণা নেই।’
এদিন তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্লিপ পাঠালেন, তারপর অর্থমন্ত্রী বললেন ডিএ বাড়াবেন। কবে বাড়াবেন, তার কোনও তথ্য নেই। ১৫ মার্চ যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা আছে। তাই মামলা থেকে বাঁচার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই।’

