মতাদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মসূচী পৃথক হলেও বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস ত্রিপুরায় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে, পাঁচ দলের যৌথ দাবি

আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি(হি. স.) : ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের আসন সমঝোতা হলেও অভিন্ন ন্যুনতম কর্মসূচী স্থির হয়নি এখনো। বরং, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মসূচী পৃথক হলেও বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ত্রিপুরায় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনে আন্তরিকভাবে কাজ করবে বাম-কংগ্রেসের জোট সরকার। আজ আগরতলা প্রেস ক্লাবে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় একথা জানান সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক জোট বিজেপিকে শূন্যের কোঠায় পৌছে দিয়েছে। তাই, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের অস্তিত্ব নিয়ে আবোল-তাবোল বকছে।

আজ ৫ দলের নেতৃত্ব যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। তাতে, সিপিএম, কংগ্রেস, সিপিআই, আরএসপি এবং ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী নানা ইস্যুতে বিজেপিকে তুলোধুনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচনের কাছে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের সাথে মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচীর ফারাক রয়েছে এবং আগামীদিনেও থাকবে। কিন্তু, গণতন্ত্র রক্ষায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্ত ধর্ম নিরপেক্ষ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তেমনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহাও দাবি করেন, সিপিএমের সাথে কংগ্রেস চির প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু, সময় এবং মানুষের মুক্তির তাগিদে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। তাঁর কথায়, বাইক বাহিনী গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। ত্রিপুরায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা কায়েম হয়েছে। তাই, বৃহত্তর স্বার্থে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস একজোট হয়েছে। তাঁর দাবি, ভেদাভেদ ভুলে মানুষ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হবেন। এদিকে, এআইসিসি সাধারণ সম্পাদিকা জারিটা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধীদের সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। হিংসার অভিযোগ জমা পড়ছে ঠিকই, কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিরোধীদের প্রচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন আদৌ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি।

আজ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক আবারও তিপরা মথার কাছে বিজেপিকে হারাতে সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁর দাবি, তিপরা মথার সাথে বোঝাপড়ার চেষ্টা হয়েছে। তাই তাঁর আবেদন, জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল সেই সব আসনে বিজেপি বিরোধী দলে ভোট পড়ুক। সাথে তিনি যোগ করেন, ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক জোট বিজেপিকে শূন্যের কোঠায় পৌছে দিয়েছে। তাই, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের অস্তিত্ব নিয়ে আবোল-তাবোল বকছে। সাথে সিপিআই-র রাজ্য পরিষদের সহ-সম্পাদক মিলন বৈদ্য দাবি করেন, আগুন লাগলে কোন জল দিয়ে নেভানো হবে তা নিয়ে কেউ কখনো ভাবেন না।এদিন জিতেন্দ্র চৌধুরী সাফ জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস এখনই অভিন্ন ন্যুনতম কর্মসূচী গ্রহণ করেনি। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তা নিয়ে চিন্তাভাবনা হবে। তবে, বিজেপিকে পরাজিত করে ত্রিপুরায় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। সমস্ত গণতান্ত্রিক দল মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনে আন্তরিকভাবে কাজ করবে, দাবি করেন তিনি।