কেষ্টর অনুপস্থিতিতে বীরভূমের দায়িত্ব নিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বোলপুর, ১ ফেব্রুযারি (হি. স.) : ‘যত দিন সে অনুপস্থিত তত দিন আমি দেখব বীরভূম ’, কেষ্টর অনুপস্থিতিতে বীরভূমের দায়িত্ব নিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার মামলায় জেলবন্দি। পঞ্চায়েত ভোটের আগে অনুব্রতহীন সেই বীরভূম জেলার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে প্রশাসনের সভা মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা করলেন মমতা। পঞ্চায়েত ভোটের আগে তাঁর এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

গরু পাচার মামলায় ২০২২ সালের ৮ আগস্ট থেকে জেলবন্দি অনুব্রত। এর আগে বিভিন্ন ভোটের সময় তাঁকে নজরবন্দিও করা হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে বুধবার বোলপুরে মমতা বলেন, ‘‘আমার দু’একজন নেতাকে জেলে পুরে রেখেছ। নির্বাচনের সময়ে তো ঘর থেকেই বেরোতে দিত না, তা-ও মানুষ ভোট দেয়।’’ এর পরেই তিনি ঘোষণা করেন, ‘‘এবার থেকে বীরভূম জেলা, যত দিন সে অনুপস্থিত থাকবে, আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে দেখব।’’ মমতার সংযোজন, ‘‘ফিরহাদ হাকিম আমাকে সাহায্য করবে। কোর গ্রুপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আগের সিস্টেমেই কাজ করব।’’ তবে মমতা সরাসরি অনুব্রতের নাম করেননি।

পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে অনুব্রতহীন বীরভূমে গত ৩০ জানুয়ারি নতুন কোর কমিটির সঙ্গে একান্তে বৈঠকও করেন মমতা। আগে এই কোর কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৪। সেই সংখ্যা এখন বেড়ে হয়েছে ৭। ওই কোর কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন কাজল শেখ এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় । যাঁরা বীরভূমে ‘অনুব্রত-বিরোধী’ হিসাবেই পরিচিত। এ ছাড়াও কোর কমিটিতে আছেন সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ, রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বোলপুর লোকসভার সাংসদ অসিত মাল।

এদিন কেষ্ট নাম উল্লেখ না করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বীরভূমের মানুষ ভয় পাবেন না। অনেকে ভয় দেখাচ্ছেন, বিজেপি আসছে। ভয় পাবেন না। কিচ্ছু আসছে না। নাথিং। চ্যালেঞ্জ নিলাম। বীরভূম আমি নিজে দেখব। ববি আমার সঙ্গে থাকবে, অভিজিৎ থাকবে, আশিষদারা থাকবে, ব্লক প্রেসিডেন্ট, এডুকেশন সেল, ল’ইয়ার সেল থেকে শুরু করে সবাই থাকবে। আমি ৬ মাস পরপর বীরভূম আসব।সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। এরকম অবস্থায় বীরভূমকে আগলে রাখতে মমতার ওই ঘোষণায় উজ্জীবিত হওয়ার কথা দলের। দলনেত্রীর সেই ঘোষণায় মনবল ভাঙতে থাকা দলীয় কর্মীদের মনোবল এক ধাক্কায় চাঙ্গা হয়ে যায়।
তিনি যে কেষ্টর পাশেই রয়েছেন, বার বার সেই বার্তাই দিয়েছেন মমতা। গত বছর অনুব্রতের গ্রেফতারের কিছু দিন পর মমতা বলেছিলেন, ‘‘বিজেপি ভাবছে, কেষ্টকে জেলে পুরে বীরভূমের দুটো আসন জিতে নেবে। সে গুড়ে বালি।’’ বীরভূমের নেতাদের তিনি নির্দেশ দেন, ‘‘এ বার সবাইকে তিন গুণ লড়াই করতে হবে। কেষ্টকে বীরের সম্মান দিয়ে জেল থেকে বার করে আনতে হবে।’’
প্রশাসনিক সভা সেরে সোনাঝুরির পথে চায়ের দোকানে ঢোকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে হাতেই চা বানালেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘এগুলো এখানে সাজিয়ে রাখো’, বলে হাতে ছাঁকনি তুলে নিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই।