অবশেষে দল থেকে বহিষ্কৃত কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলি

গুয়াহাটি, ৪ অক্টোবর (হি.স.) : অবশেষে বরপেটা জেলার অন্তর্গত ১২৬ নম্বর বাঘবরের বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন অসম কংগ্রেস প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এপিসিসি)-র সভাপতি ভূপেন বরা। আজ সোমবার দলের প্রদেশ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ববিতা শৰ্মার জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় অনুশাসন ভঙ্গ করার অভিযোগে এপিসিসি সভাপতি ভূপেন বরা বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদকে কংগ্রেসের সব পদ থেকে সাসপেন্ড করেছেন। বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অসম আন্দোলনের অন্যতম শহিদ দয়ানাথ শৰ্মা সহ অন্যদের ‘ঘাতক’ আখ্যা দিয়েছিলেন বিধায়ক শেরমান আলি। অসম আন্দোলনের শহিদদের অপমান করায় রাজ্য জুড়ে ব্যাপক প্ৰতিক্ৰিয়ার সৃষ্টি হলে, এই মন্তব্যের জন্য তাঁকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠিয়েছিলেন অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ভূপেন বরা। ইতিমধ্যে শেরমান আলির এই অপমানজনক মন্তব্যে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার প্রান্তে প্রান্তে প্ৰতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে। বহু থানায় তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে এফআইআর দায়ের হয়। ওই সব এফআইআরের ভিত্তিতে গত ২ অক্টোবর রাত ৭:১৫ মিনিট নাগাদ দিশপুরে বিধায়ক আবাস থেকে শেরমান আলিকে গ্রেফতার করেছিল পানবাজার পুলিশ।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে বিধায়ক আবাস থেকে শেরমান আলি আহমেদকে গ্ৰেফতারের পর কংগ্ৰেস বিধান পরিষদীয় দল এক জরুরি বৈঠকে বসে৷ অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বরা, বিরোধী দলনেতা দেবব্ৰত শইকীয়া, উপ-দলনেতা রকিবুল হুসেন, বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, জাকির হুসেন শিকদার সহ দলীয় প্ৰায় সব বিধায়কের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিতর্কিত শেরমান আলিকে বহিষ্কারের প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করা হয়৷ এই প্রস্তাবের ওপর সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল রাতে জরুরি বৈঠকে বসে প্রদেশ নেতৃত্ব। গতরাতের বৈঠকেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে অসম আন্দোলনে শহিদদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করা এবং দলীয় অনুশাসন ভঙ্গ করেছেন বলে শেরমান আলি আহমেদকে তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে কারণ দৰ্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এপিসিসি সভাপতি ভূপেন বরা৷ গতকাল রবিবার ওই নোটিশের জবাব দেওয়ার অন্তিম দিন ছিল। উত্তর না পেয়ে আজ তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি ভূপেন বরা৷’

প্ৰসঙ্গত, ইতিমধ্যে শেরমান আলি আহমেদের বিরুদ্ধে পানবাজার থানায় ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩ (এ) ধারায় ৫২০/২১ নম্বরে মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে দিশপুর এবং গীতানগর থানায় যথাক্রমে ৩৫৯৮/২১ এবং ৪০৭/২১ নম্বরে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩ (এ), ২৯৪, ৫০০ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।