নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই৷৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সভাপতিত্বে আজ সচিবালয়ে পূর্ত দপ্তরের এক পর্যলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় মুখ্যসচিব মনোজ কুমার উপস্থিত ছিলেন৷ পূর্ত দপ্তরের বিভিন্ন কাজের পর্যালোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সড়ক ও অন্যান্য সড়কের মেরামতির ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, মেরামতি সংক্রান্ত ছোট ছোট কাজ অনেক সময় নজরদারীর জন্য সম্পন্ন হয়না৷ এতে যানবাহন চলাচলে যেমন অসুুবিধা হয়, কখনো কখনো দুর্ঘটনা ঘটে৷ সেদিকে দপ্তরকে লক্ষ্য রাখতে হবে৷ মেরামতির কাজ দ্রততার সাথে সম্পন্ন করতে হবে৷
বিল্ডিং সংক্রান্ত কাজগুলির পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অর্ধসমাপ্ত কাজগুলি দ্রততার সাথে সম্পন্ন করতে হবে৷ সাবমের ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজের অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ করোনা ভাইরাস জনিত পরিস্থিতিতে সেতুর কাজ যথাযথভাবে চলছে কিনা কত সংখ্যক শ্রমিক কাজ করছে, এ বিষয়ে নির্মাণ সংস্থার কাছে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সভায় নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ফেনী নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে৷
পর্যালোচনা সভায় জাতীয় সড়ক, পূর্ত দপ্তরের অধীনে থাকা অন্যান্য সড়ক ও সেতু, বিল্ডিং, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়৷ পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিব শশীরঞ্জন কুমার চুড়াইবাড়ি থেকে আগরতলা পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বর্তমান অবস্থা, কোন কোন অংশে মেরামতির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, কাজের অগ্রগতি ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন৷ তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে চুড়াইবাড়ি থেকে আগরতলা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ডাবল লেন স্ট্যাণ্ডার্ড করে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ ও ফরেস্ট ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত কোন সমস্যা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন৷ প্রধান সচিব আগরতলা থেকে কুর্তি বীজ পর্যন্ত বিকল্প জাতীয় সড়কের (ভায়া খোয়াই, কমলপুর, কৈলাসহর) বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সভায় অবহিত করেন৷
তিনি জানান, এই বিকল্প জাতীয় সড়কটির কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলে আগরতলা থেকে কম সময়ে চুড়াইবাড়ি পৌঁছানো যাবে৷ এন এইচ-৮ এর তুলনায় এই বিকল্প সড়কে আগরতলা থেকে ধর্মনগরের দূরত্বও কম এবং পাহাড়ি রাস্তাও তুলনায় কম৷ জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত অন্যান্য আলোচনায় মুখ্য বাস্তুকার রাজীব দেববর্মা জানান, চলতি বছরে ৮নং জাতীয় সড়কের পানিটিলা থেকে বেতছড়া (প্রায় ২২ কিমি) আমতলি থেকে উদয়পুর (৪৭ কিমি) এই দুটি অংশের কাজ চলছে৷ এই দুইটি সড়কের মধ্যে প্রথমটির নির্মাণ কাজ জানুয়ারী ২০২১ এবং দ্বিতীয়টির নির্মাণ কাজ চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও সভায় মুখ্য বাস্তুকার শ্রীদেববর্মা জানান, ৮নং জাতীয় সড়কের আরও তিনটি টেণ্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে৷
তিনি আরও জানান, ২০৮নং জাতীয় সড়ক, ২০৮-(এ), ৪৪(এ), ১০৮(এ), ১০৮(বি) নং জাতীয় সড়কের আর ১১টি কাজের টেণ্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে৷ মোট প্রকল্প ব্যয় ৩,১৯৩ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা৷ মোট দৈর্ঘ্য ২৭৯ কিমি৷ তিনি জানান, সেন্ট্রাল রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাণ্ড(ঙ্খট্টজ্জ) থেকে ও চলতি বছরে ২২টি সড়কের কাজ নেওয়া হয়েছে৷ তিনটি কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং বাকীগুলি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ সভায় পূর্ত দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার দীপক দাস জানান, চলতি বছরে ১,৫৮৬ কিমি সড়ক মেরামতির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে প্রথম কোয়ার্টারে ১৯৫ কিমি মেরামতির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে৷ তিনি জানান, চলতি বছরে ২৭টি আর সি সি সেতু ও ২৫টি ব’ কালভার্ট নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ সভায় প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা নিয়ে আলোচনা করা হয়৷ সভায় জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় বর্তমানে ৭৬টি রাস্তার কাজ চলছে৷ সভায় জানানো হয় পি এম জি এস ওয়াই ফেজ-টুতে বর্তমানে ১০টি সড়কের কাজ চলছে৷ মোট দৈর্ঘ্য ৪৯ কিমি৷ এছাড়াও ৩২টি সড়কের জন্য টেণ্ডার প্রক্রিয়ার কাজ চলছে বলে সভায় জানানো হয়৷
এছাড়াও পি এম জি এস ওয়াই থি-তে ৭৭৫কিমি রাস্তা উন্নতিকরণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়৷ এদিনের সভায় বিল্ডিং সংক্রান্ত আলোচনায় দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার স’য়িতা দাস জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৮টি বিল্ডিং এর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে৷ এছাড়াও চলতি বছরে ২৫টি দপ্তরের ২০৬টি বিল্ডিং নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে৷ মোট প্রকল্প ব্যয় ১,১৫৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা৷ এরমধ্যে চলতি বছরে ৮৫টি বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ আর বাকি ১২১টি বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে মুখ্য বাস্তুকার শ্রীমতি দাস জানিয়েছেন৷ এদিনের সভায় সচিব অপূর্ব রায়, সচিব তনুশ্রী দেববর্মা, বিশেষ সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েল এবং পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকার ও অন্যান্য আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷



















