নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই৷৷ ত্রিপুরার নাবালিকা রাজস্থানে বিক্রির ঘটনায় উচ্চ আদালতে সুয়োমুটো মামলায় আজ পুনরায় শুনানি হয়েছে৷ শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছে, ওই নাবালিকাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক যেহেতু ওই নাবালিকা এখন করোনা মুক্ত৷ এদিন সরকারী আইনজীবী হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, সমস্ত আইন মেনে ওই নাবালিকার গর্ভপাত করানো হয়েছে৷ সেই সাথে ওই নাবালিকাকে যাতে তার পরিবারের লোকজন গ্রহন সেই ব্যাপারে আলোচানা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রিপুরা থেকে রাজস্থান নেওয়া হয়েছিল৷ তাকে সেখানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল৷ মে মাসে ওই নাবালিকা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে৷ বিষয়টি কেবল মহিলা কমিশনই নয়, শিশু সুরক্ষা কমিশনেও পৌঁছেছিল৷ তদন্ত চলাকালীন ওই নাবালিকা ত্রিপুরার বাসিন্দা বলে দাবি করে৷ তাঁর বাড়ি ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় থানা এলাকায় অবস্থিত বলে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন৷
এই ঘটনায় ঊনকোটি জেলা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে ওই নাবালিকার ঠিকানা নিশ্চিত করেছে মান্দাওয়া পুলিশ৷ নাবালিকাটি পুলিশকে জানিয়েছে, তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল৷ তাই, সে পালিয়ে গিয়েছিল৷ সম্প্রতি পুলিশ তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ তখন তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল৷ গত ১৬ জুন তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল৷
এদিকে, ত্রিপুরা শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপারর্সন জানিয়েছিলেন, ওই নাবালিকা করোনা আক্রান্ত এবং আড়াই মাসের অন্তঃসত্বা৷ ফলে, তাকে ত্রিপুরায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে৷ জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা-কে রাজু দেবনাথ নামে এক যুবক রাজস্থান নিয়ে গিয়েছিল৷ সেখানে তাকে বিক্রি করে দিয়েছিল৷ পড়াশুনার জন্য তাকে রাজস্থান নিয়ে গিয়েছিল ওই যুবক৷ কিন্তু, তার বদ উদ্দেশ্য কি ছিল তা ওই নাবালিকা এবং তার পরিবার বুঝতে পারেননি৷
আজ ভিডিও কনফারেন্সে মামলায় শুনানি হয়েছে৷ এ-বিষয়ে সরকারি আইনজীবী দেবালয় ভট্টাচার্যী জানিয়েছেন, ওই নাবালিকার গর্ভপাত করানো হয়েছে৷ সে সুস্থ আছে৷ সমস্ত নিয়ম নীতি মেনেই ওই নাবালিকার গর্ভপাত করানো হয়েছে৷ এমনকি ওই নাবালিকার পরিবারের সাথে কথা হয়েছে যাতে নাবালিকাকে তারা গ্রহণ করেন৷ সেই মতো পরিবারের লোকজনও একমত হয়েছেন৷ এদিকে, ওই নাবালিকা এখন করোনা মুক্ত৷



















