নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই (হি. স.): ইতিহাস ফের একবার ৫৮ বছর পর পুনরাবৃত্তি হল।গালওয়ান উপত্যকা থেকে চিনা সেনা পিছু হটে গিয়েছে। ১৯৬২ সালের ১৪ জুলাই এই গালওয়ান উপত্যকা থেকে পিছু হটেছিল চিন। ফলে এবারের ঘটনা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়। ৫৮ বছর আগের সেই ঘটনা সেই সময় সংবাদের শিরোনাম অর্জন করেছিল। কিন্তু এর ঠিক ৯১ দিন বাদে চিন ভারতের বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল চিন। কিন্তু ২০২০ সালের ভারত একেবারে আলাদা। সামরিক এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে শক্তিশালী ভারতের কাছে নতিস্বীকার করে পিছু ঘটে গিয়েছে চিন।কিন্তু বিশ্বাসঘাতক ড্রাগনের ওপর নজরদারি চালানো একান্ত প্রয়োজন।
এক সেনা কর্তার কোথায় এপ্রিলের শুরুতে ভারত যখন শেয়ক এবং গালওয়ান সঙ্গমে সেতু বানানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠেছিল, তখনই গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের অধীনে থাকা ৮০০ মিটার এলাকা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে চিন। ১৯৫৯ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে এই এলাকাকে ভারতের অধীনেই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ৬১ বছরের পুরনো সেই চুক্তি ভঙ্গ করেই মূল নিয়ন্ত্রণরেখায় সৈন্য সমাগম করতে থাকে চিন।ফলে এবার চিনা সেনা দুই কিলোমিটার কিছু হটে গেলেও সতর্ক থাকতে হবে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক স্পর্শকাতর জায়গায় রয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চিনের জয় হয়েছে। আর ভারতের হার। এরপর ১৯৬৫ এবং ১৯৭৫ সালে সীমান্তে দুই দেশের সেনা জওয়ানদের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ বেধে ছিল। সেই সংঘর্ষ কখনোই বড় যুদ্ধের আকার ধারণ করেনি। এই নিয়ে চতুর্থবার দুই দেশের সেনার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে গালওয়ানে তিন কিলোমিটারের বাফার জোন তৈরি করে সমঝোতায় এসেছে দুই দেশ। কিন্তু সেনা আধিকারিকদের মতে চিন এবার যেভাবে আগ্রাসন দেখিয়েছে তাতে করে বেজিংয়ের ওপর ভরসা করা যায় না।
১৫ জুন, সোমবার রাতে সুপরিকল্পিতভাবে চিন যে ভাবে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের উপর হামলা চালিয়েছিল, তাতে করে আগামী দিনে সতর্ক থাকতে হবে।এক প্রাক্তন সেনা কর্তার কথায় ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চিন গালওয়ানে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল। এবার তেমনটা না হলেও পরিস্থিতি অনেকটাই এক। বিগত ৬০ বছরে দুই দেশের মধ্যে থাকা সম্পর্ক খুব একটা ভাল পর্যায়ে ছিল না। প্যাংগং ঝিল থেকে চিনকে সরানোটা মুশকিল। কারণ ওরা এখনো ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ দখল করে রেখেছে আসলে দুই দেশের সৈন্য অপসারণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে চলেছে। তাতে করে আগামী দিনে সতর্ক থাকতে হবে।



















