নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ জুলাই৷৷ ডিজিপির শূণ্যপদ পূরণ, প্রসিকিউশন ডিরেক্টরেট মুছে ফেলা এবং এসপিও নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷ কিন্তু, বামফ্রন্ট সরকারের কর্মকান্ড তুলে ধরে ওই বিষয়গুলিতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের জবাব বিস্ফোরণ ঘটাল৷ তাতে রাজনৈতিকভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা কিছুটা হলেও ঘায়েল হয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে৷ আজ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বিরোধী দলনেতাকে পত্র মারফত সমস্ত বিষয়ে জবাব দিয়েছেন৷
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, বামফ্রন্ট জমানায় কে টি ডি সিংয়ের চাকুরীর মেয়াদ পঁচিশ বছর হতেই তাঁকে ডিজিপি করা হয়েছিল৷ শুধু তাই নয় কে নাগরাজকে বেআইনীভাবে দুইবার এডহক পদোন্নতি দিয়ে ডিজিপি বানানো হয়েছিল৷ অথচ তখন তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা পড়েছিল৷ সাথে তিনি আরও বলেন, কেটিডি সিংয়ের ডিজিপি পদে নিযুক্তি এবং দুর্নীতির মামলায় জড়িত কে নাগরাজকে ডিজিপি বানানোতে কোন আপত্তি না থাকলেও আদালতের অনুমতি নিয়ে এখন ডিজিপি নিযুক্তি দেওয়ার বিষয়টির সমালোচনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক৷ মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই ডিজিপি নিয়োগ করা হচ্ছে৷ কারণ, ইউপিএসসির মনোনিত অমিতাভ রঞ্জন এবং ভি এস যাদবকে ডিজিপি পদে নিযুক্তি দেওয়া যায়নি৷
মুখ্যমন্ত্রী ওই চিঠিতে প্রসিকিউশন ডিরেক্টরেট নিয়ে বামফ্রন্টের চরম উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতার বর্ণনা দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, প্রসিকিউশন ডিরেক্টরেট চালু রাখার কোনও যৌক্তিকতা দেখা যাচ্ছে না৷ কারণ, নামকাওয়াস্তে ওই দপ্তরটি চালু রয়েছে৷ তাঁর দাবি, ২০০৭ সালে একজন অধিকর্তা এবং দুইজন সহ অধিকর্তার পদ সৃষ্টি করে প্রসিকিউশন ডিরেক্টরেট গঠন করা হয়েছিল৷ অথচ তিন বছর বাদে শুধুমাত্র সহ অধিকর্তার একটি পদ পূরণ করা হয়েছিল৷ ২০১০ সাল পর্যন্ত অধিকর্তা এবং একটি সহ অধিকর্তার পদ শূণ্য ছিল৷ তিনি বলেন, ওই দপ্তরটি কোনও সদর্থক ভূমিকা পালন করেনি৷ অথচ ২০১০ থেকে ২০১৮ এর মার্চ পর্যন্ত শুধু বেতন খাতেই ৮৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে৷ তিনি দাবি করেন, প্রসিকিউশন ডিরেক্টরেট যে উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল তার শিকিটুকুও কাজ করেনি৷ মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে সাফ জানিয়েছেন প্রসিকিউশন ডিরেক্টরেট বন্ধ করে দেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি রাজ্য সরকার৷ এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিমূলক৷ বরং ওই দপ্তরটিকে আরও সচল কিভাবে করা যায় সেই চিন্তা ভাবনা চলছে৷ দপ্তরকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে৷ তাতে অপরাধ মামলায় সাজার হার বাড়ানো সম্ভব হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী এই চিঠিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতা তুলে ধরে বলেন, আপনি সব ভুলে গিয়েছেন৷ আপনার মুখ্যমন্ত্রীত্বে সরকারী অর্থের অপব্যবহার হয়েছে৷ ২০০৭ সাল থেকে একটি দপ্তর ঠায় কোন কাজ না করে দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ অথচ আপনি এক্ষেত্রে কোন ভূমিকা নেননি৷ বর্তমান সরকার আপনাদের ভুল সংশোধনের চেষ্টা করছে৷
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী এসপিও নিয়োগ নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন এসপিও নিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে রাজ্যের বেকারদের৷ তাছাড়া পুলিশ ব্যবস্থারও অনেকটা উন্নতি হবে৷ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এসপিও জওয়ানদের ভূমিকাও কম নয়৷ যেখানে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কর্মচারীদের বেতনের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে সেখানে নতুন নিয়োগ অনেকটাই সাহসী পদক্ষেপ৷ রাজ্যের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই এই এসপিও নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব চিঠিতে উল্লেখ করেছেন৷

প্রাক্তণকে পত্রবোমা মুখ্যমন্ত্রীর
Releated Posts
শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই
নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…


















