ঘরের আলো নিভিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রদীপ প্রজ্বলন করলেন রাজ্যবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ এপ্রিল৷৷ বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর৷ আজ দেশবাসী আবারও প্রমাণ করলেন, যে কোনও বিপদে আমরা ঐক্যবদ্ধ৷ করোনা যুদ্ধে সৈনিকদের সমগ্র দেশবাসী একত্রিতভাবে কুর্নিশ জানিয়েছেন৷ অন্তত অধিকাংশ ত্রিপুরাবাসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঘড়ির কাটায় ঠিক ৯-টা বাজতেই বাড়ির সমস্ত বৈদ্যুতিন আলো নিভিয়ে দেন৷ ৯ মিনিটের জন্য প্রদীপ, মোমবাতি, টর্চ এবং মোবাইল, যে যেমন পেরেছেন আলো জ্বালিয়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে শামিল, প্রমাণ দিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেব স্ত্রী-পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়েছেন৷ এদিকে অতি উৎসাহী কিছু মানুষ বাজি পুড়িয়ে এই মহান যজ্ঞে শামিল হয়েছেন৷ ৯ মিনিট সমাপ্ত হতেই অনেকে শাঁখ বাজিয়ে উলুধবনি দিয়েছেন৷ তবে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশ আজ একজোট হয়েছে, বলা যেতেই পারে৷


আজ রবিবার সকাল থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় রাত নয়টার কার্যক্রমের৷ বিভিন্ন সংস্থা গরিবদের মধ্যে মোমবাতি বিলি করেছে৷ তাছাড়া, আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল তাঁদেরকেও মোমবাতি বিলি করা হয়েছে৷ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী-জায়া নীতি দেব আজ দুস্থদের মধ্যে পূবর্োদয়া সামাজিক সংস্থার তরফে মোমবাতি বিলি করেছেন৷


ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এবং সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক গতকাল ত্রিপুরাবাসীর উদ্দেশ্যে আজ রাত ৯ টায় ৯ মিনিটের জন্য আলো জ্বালিয়ে করোনা যুদ্ধে সৈনিকদের কুর্নিশ জানানোর আবেদন জানিয়েছিলেন৷ বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণও এক ভিডিও বার্তায় একই আবেদন রেখেছিলেন৷ ত্রিপুরাবাসীও একজোট হয়ে তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন৷


ত্রিপুরায় চোরাইবাড়ি থেকে সাব্রুম পর্যন্ত একই চিত্র ফুটে উঠেছে আজ রাত নয়টায়৷ চারিদিকে অন্ধকারের মাঝে এক চিলতে আলো উঁকি মারছিল৷ কিছু উৎসাহী মানুষ বাজি পুড়িয়েছেন ঠিকই৷ কিন্তু তাঁদেরও একই বক্তব্য, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা একত্রিত হয়ে লড়াই করবো৷ লকডাউনে অন্যান্য দিন রাতেও কয়েকজনকে দেখতে পাওয়া যায়৷ কিন্তু আজ সমস্ত রাস্তাঘাট ছিল জনমানবশূন্য৷ এই পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিতেই হয়ত সবাই ঘরমুখো হয়েছেন৷ তবে, কিছু ব্যতিক্রমী ছিলেন৷ তাঁরা ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী৷ তাই তাঁরা ওই যজ্ঞে শামিল হননি৷ এমন কিছু মানুষের বাড়িতে যথারীতি আলো জ্বলছিল৷