শিলং (মেঘালয়), ২৯ ডিসেম্বর (হি.স.) : ঠাণ্ডায় জবুথবু মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল। কুঁকড়ে যাচ্ছেন অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং-সহ মেঘালয়ের নগরিককুল।

মেঘালয়ের শিলঙের গোল্ফক্লাব-সহ প্রায় প্রতি এলাকা ভোরের দিকে বরফে আচ্ছাদিত থাকে। পূর্ব খাসি জেলার শিলং-জোয়াই রোড সংলগ্ন মাওবরথুন এলাকার অবস্থাও তথৈবচ। শুক্র, শনি ও রবিবার রাতে এখানকার তাপমাত্রা এক ধাক্কায় নেমে যায় মাইনাস (-) ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে৷ এখন পর্যন্ত মরশুমের সব থেকে শীতলতম রাত কাটিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা৷ শিলঙের বাসিন্দারা বলছেন, তীব্র শীতের কারণে এ সব জায়গায় জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। মেঘালয়ের একটা বড় অংশ এখন কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা। তবে গত দুদিন মেঘাচ্ছন্ন থাকার পর রবিবার দিনের বেলায় সূর্যদেবতার দেখা মেলায় খানিকটা স্বস্তি পেয়েছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু বিকেল গড়াতে জাঁকিয়ে পড়েছে শীত।
শিলঙের গল্ফক্লাব, শিলং-জোয়াই বা শিলং-চেরাপুঞ্জি সড়কের ওপর শনি ও রবিবার রাতে ছয় থেকে আট ইঞ্চি বরফের স্তর পড়েছে।
রাজ্যের রাজধানী শিলং এলাকা প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে। সাম্প্রতিককালের অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের তাপমাত্রা দ্রুত নিম্নমুখী৷ তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অন্তত আরও দু-তিনদিন অব্যাহত থাকবে, জানিয়েছে রাজ্যের আবহাওয়া দফতর।
ঠাণ্ডা হাওয়ায় জনজীবন প্রায় থমকে যাওয়ার অবস্থা৷ শৈলশহর শিলঙে দিবাভাগে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেসসিয়াস থাকলেও রাতের দিকে তা নিম্নগামী হতে থাকে ৩ থেকে মাইনা তিনে।
মৌসম ভবন সূত্রের খবর, এখানকার তাপমাত্রা আরও কমবে৷ ঠাণ্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় ঘেরা থাকবে এই অঞ্চল৷ আবহ বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবার জমজমাট শীত আরও পড়বে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। শীতের বাতাস ধেয়ে আসছে। এই অংশের তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি জম্মু-কাশ্মীর বা সিমলার মতো না-হলেও একেবারে ফেলনার নয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিকিম, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, ত্রিপুরায় অবশ্য শনি ও রবিবার রাত থেকে তাপমাত্রা কমেছে বহু৷ শীতে জমে গিয়েছেন অরুণাচলের তাওয়াংবাসীও৷ চিন সীমান্ত লাগোয়া তাওয়াং শহরের তাপমাত্রা মাইনাস ২ থেকে মাইনাস ৩ ডিগ্রির আশপাশে৷ গভীর রাতের দিকে সেই তাপমাত্রা আরও কমে যায়৷ ভোরের দিকে জমা জলের ওপর হালকা বরফের স্তর পড়ে তাওয়াঙের উত্তরাংশের কোনও কোনও এলাকায়৷ সিকিমের পরিস্থিতিও শীতলতম৷ গ্যাংটকেও বেশ ঠাণ্ডা৷ এক কথায় গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুত নামছে পারদ সূচক৷
শিলঙের বাসিন্দারা বলেছেন, গত ২০১৭ সাল ছাড়া হাল-আমলে এত ঠাণ্ডা পড়তে তাঁরা দেখেননি। বলেন, শীতের ফলে মানুষজন সোয়েটার-মাফলার বা জ্যাকেট খুলতে পারছেন না। প্রায় সব বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে লোকজন হাত-পা গরম করার চেষ্টা করছেন। খেতে বরফ পড়ায় কৃষকরা মাঠে ফসল বুনতে পারছেন না বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। রিলবঙের বাসিন্দা রূপম দে পুরকায়স্থ বলেছেন, গত কয়েক বছরে আমরা এ-ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। তবে তিনি মনে করেন, খুব শীঘ্রই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তাপমাত্রা বাড়বে, কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ পুরোপুরি চলে যেতে আরও দিন কয়েক সময় লাগবে।

