নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ সেপ্ঢেম্বর৷৷ বন্ধে রাজ্যের গতি যাতে থমকে না যায়, তার জন্য কোমড় বেঁধে নেমেছে রাজ্য সরকার৷ পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার সারা ভারত বন্ধ ডেকেছে কংগ্রেস৷ রাজ্যেও বন্ধ পালন করবে প্রদেশ কংগ্রেস৷ তাতে বামফ্রন্টও সমর্থন জানিয়েছে৷ ফলে, প্রশাসনের পাশাপাশি সারা রাজ্যকে গতিশীল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ সরকারী কর্মচারীদের অফিসে হাজিরার জন্য কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে টিআরটিসি বাস পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ রাজস্ব ও মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী তথা ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা বিবৃতি দিয়ে বন্ধ প্রত্যাখান করার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন৷
শনিবার পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, সরকারী কর্মচারী এবং অন্যান্য নিত্যযাত্রীদের জন্য আগামী সোমবার বন্ধের দিন সকাল নয়টা থেকে আগরতলা শহরে কিছু রুটে টিআরটিসি বাস চলবে৷ রাজ্য সরকার টিআরটিসি বাস স্বাভাবিকভাবে চালানোর সব রকম উদ্যোগ নিয়েছে৷ ওইদিন কলেজটিলা থেকে সচিবালয় ভায়া মোটর স্ট্যান্ড ও উত্তর গেইট, চন্দ্রপুর আইএসবিটি থেকে সচিবালয় ভায়া জি বি হাসপাতাল ও কুঞ্জবন, অরুন্ধুতিনগর ড্রপ গেইট থেকে সচিবালয় ভায়া বটতলা, ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনী, কর্ণেল চৌমুহনী এবং নরসিংগড় থেকে রাধানগর ভায়া সচিবালয় টিআরটিসি’র বাস চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে৷
তবে, আগরতলা শহরতলী ছাড়া অন্যত্র যাঁরা রোজ অফিসে যাতায়াত করেন তাঁদের জন্য কি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেবিষয়ে পরিবহন দপ্তর থেকে কিছুই জানানো হয়নি৷ বিশেষ করে, ট্রেনে করে বহু সরকারী কর্মচারী রোজ যাতায়াত করেন৷ সেক্ষেত্রে ওই দিন পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে ট্রেন পরিষেবা চালু রাখবে কিনা সে বিষয়ে জানা যায়নি৷
এদিকে, এক বিবৃতিতে রাজস্ব ও মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী তথা ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা আগামী ১০ সেপ্ঢেম্বর একটি রাজনৈতিক দলের আহুত ভারত বন্ধকে প্রত্যাখান করার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানিয়েছেন৷ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আগামী ১০ সেপ্ঢেম্বর সোমবার একটি রাজনৈতিক দল একদিনের জন্য ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছে৷ রাজ্যে এই মুহুর্তে অধিকাংশ এলাকায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপনির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে৷ বিশেষত, উপনির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে৷ অন্যদিকে, আসন্ন শারদোৎস উপলক্ষ্যেও সারা রাজ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে৷ এই সময়ে এহেন বন্ধ পঞ্চায়েত উপনির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে ব্যাহত করবে এবং শারদোৎসবের প্রস্তুতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও দারুণভাবে প্রভাব ফেলবে৷ তথাকথিত ১০ সেপ্ঢেম্বরের একদিনের ভারত বন্ধ সাধারণ মানুষের বিশেষ করে দিনমজুর অংশের গরিব জনগণের রুজি-রোজগারকেও দারুণভাবে ব্যাহত করবে৷
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আগামী ১০ সেপ্ঢেম্বর আহুত এই বন্ধকে প্রতিহত করে সারা রাজ্যে স্বাভাবিকভাবে সমস্ত রকমের সরকারী কাজকর্ম চালু রাখা, অন্যদিকে পঞ্চায়েত উপনির্বাচন প্রক্রিয়াােক স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা এবং রাজ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যানবাহন চলাচল সহ শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷
বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, তথাকথিত এই বন্ধে জনজীবনে যে কোনও ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টাকে রাজ্য সরকার কঠোরভাবে প্রতিহত করবে৷ সারা রাজ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপনির্বাচনে রাজ্যের সাধারণ নাগরিক তাদের পবিত্র সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা বিশেষত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পবিত্র ভোটাধিকার প্রয়োগ সুনিশ্চিত রাখতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর৷
তাই, রাজ্যের সমস্ত অংশের শান্তিপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণকে তথাকথিত একটি রাজনৈতিক দলের আহুত বন্ধকে সমস্ত দিক থেকে প্রত্যাখান করে রাজ্যের স্বাভাবিক নাগরিক জীবনযাত্রা অক্ষুন্ন রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷
বন্ধে সমস্ত সরকারী, আধা সরকারী এবং সরকার অধিগৃহীত সংস্থাগুলির কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিত থাকতে শুক্রবার নোটিশ জারি করেছে রাজ্য সরকার৷ শুধু তাই নয়, ওই দিন অফিসে না গেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হবে৷ পাশাপাশি, সমস্ত অফিসকে দুপুর বারটার মধ্যে কর্মচারীদের হাজিরার তালিকা সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ পুলিশ প্রশাসনকেও সমস্ত অফিসে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷


















