নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ সেপ্ঢেম্বর৷৷ স্বাক্ষরতার হার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর কথায়, শুধু সই করতে জানলেই স্বাক্ষর হওয়া যায় না৷ এমনকি শিক্ষিত হওয়াও যায় না৷
পশ্চিম জেলা সাক্ষারতা সমিতির উদ্যোগে এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সারা দেশের সাথে ত্রিপুরা রাজ্যেও আজ ৫২তম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন করা হয়৷ রবীন্দ্র শতবার্ষিকীভবনের ১ নং প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ উদ্বোধকের ভাষণে তিনি বলেন, সাক্ষরতা মানে শুধু নিজের নাম সই করতে শেখা নয়৷ নিরক্ষরতা মানুষের জীবনের এক নির্মম অভিশাপ৷ এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে গেলে শুধু নাম সই দিলেই হবে না৷ প ত্রিকা পড়তে হ বে, দেশ বিদেশের খবর রাখতে হবে যা বিশেষ জরুরী৷ জানতে হবে ব্যাঙ্ক সহ অন্যান্য আরও কার্যকরি বিভিন্ন ফর্ম পূরণের পদ্ধতি৷ এছাড়া সবচেয়ে বেশী জরুরী হল নিজেকে একজন সুশিক্ষিত ও কর্মদক্ষ স্বনির্ভর ও সচেতন নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শ্রীনাথ বলেন, প্রকৃত শিক্ষা হল নিজেকে একজন সামাজিক দায়বদ্ধ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা৷ যার দ্বারা সমাজ যেমন উপকৃত হবে তেমনি সমাজের অপর আর একজন মানুষও সুবিধা ও সুশিক্ষার সুযোগ পাবেন৷ প্রকৃত শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া ও ভাল চাকুরি পাওয়া নয়৷ প্রকৃত শিক্ষার লক্ষ্য নিজেকে সুনাগরিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার শিক্ষা৷ তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের এই শুভ দিনে প্রতিজ্ঞা হোক আগামী সাক্ষরতা দিবসে ত্রিপুরা রাজ্য যেন সাক্ষরতায় সেরা রাজ্যের খেতাব অর্জন করতে পারে৷ আর সেই কাজটা সর্ম্পূ করবে ত্রিপুরার ছাত্র-ছাত্রীরা৷ এছাড়াও এই কাজে নতুন উদ্যমে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসারও তিনি আহ্বান জানান৷ অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জিলা পরিষদের সভাধিপতি দিলীপ কুমার দাস বলেন, সাক্ষরতার কাজে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন৷ কারণ আগামী দিনে সাক্ষরতার ত্রিপুরাকে সবাই শ্রেষ্ঠ আসনে দেখতে চান৷
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ড প্রফুল্লজিৎ সিন্হাও তার ভাষণে এই মহৎ কাজে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান৷ বিশেষ অতিথির ভাষণে মধ্যশিক্ষা অধিকার অধিকর্তা উত্তম কুমার চাকমা জানান, এখন তিনটি প্রোগ্রামের মধ্যে দিয়ে সাক্ষরতার কাজ সুরু হবে৷ তা হল বেসিক লিটারেসি, প্রবহমান এবং স্কীল ডেভেলপমেন্ট৷ ুষ্ঠানে বক্তব্য রাখন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বর্ণালী গোস্বামী৷ ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন পশ্চিম জেলা সাক্ষরতা কমিটির আহ্বায়ক শেখর রঞ্জন চৌধুরী৷ উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন মহারানী তুলসীবতি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা৷


















