কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা এলাকায় বাড়ি থেকে ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ৩২ বছরের এক যুবক ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করত। মানসিকভাবে চাপে পড়েই ওই কিশোরী চরম পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যরা অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে ওই যুবকের সঙ্গে কিশোরীর যোগাযোগ ছিল। কয়েক মাস আগে যুবক তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, সেখানে যুবকের মা কিশোরীকে একটি ঘরে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং ওই ঘরে যুবক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে।
পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, কিশোরীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে সেগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করা হত। কিশোরীর মায়ের দাবি, ওই যুবক বিভিন্ন অজুহাতে মেয়েকে ডেকে পাঠাত এবং দেখা করতে অস্বীকার করলে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিত।
কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, প্রথমদিকে তাঁরা মেয়ের সঙ্গে ওই যুবকের যোগাযোগের বিষয়টি জানতেন না। পরে জানতে পেরে মেয়েকে ওই সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু যুবকটি এরপরও মেয়েটির সঙ্গে দেখা করত এবং অ্যাসিড হামলার হুমকিও দিয়েছিল বলে অভিযোগ।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ওই যুবকের বাড়িতে কিশোরীকে জোর করে শাঁখা-পলা ও সিঁদুর পরানো হয়েছিল। মেয়েটির সম্মতি ছিল না বলে দাবি পরিবারের। পরে তার মা তাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
কিশোরীর মৃত্যুর পর পরিবার গাইঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযোগ, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং পরিবারের তোলা অন্যান্য বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
























