শিলং, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মেঘালয়ের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ও রোগ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা আরও সহজে পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার শিলংয়ে তিনটি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা।
এই তিনটি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট মাওপাত, পাইনুরসলা এবং বাঘমারার মানুষের পরিষেবায় নিয়োজিত থাকবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৩টি গ্রাম এবং মোট দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়েছে। মাওপাতে প্রায় ৪৫টি, পাইনুরসলায় ২৬টি এবং বাঘমারায় ২২টি গ্রামে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। মাওপাত ও পাইনুরসলা পূর্ব খাসি হিলস জেলার কমিউনিটি ও রুরাল ডেভেলপমেন্ট ব্লক, অন্যদিকে বাঘমারা দক্ষিণ গারো হিলস জেলায় অবস্থিত।
প্রতিটি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটে চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। ইউনিটগুলিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ডের ব্যবস্থা থাকবে। স্থানীয় এলাকায় রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং পরবর্তী পর্যায়ের পরিষেবা দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থাও করবে এই ইউনিটগুলি।
এই উদ্যোগে অসংক্রামক রোগ বা এনসিডি প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং এবং নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ধারাবাহিক চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার মতো বিশেষ পরিষেবাও দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা বলেন, ২০১৮ সাল থেকেই তাঁর সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তাঁর কথায়, উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ তখনই হয়, যখন তার সুফল রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স বা মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করাই উদ্যোগের সবচেয়ে সহজ অংশ। প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন এই পরিষেবার মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ, উদ্বোধনকে নয়, রোগীদের ওপর এই উদ্যোগের বাস্তব প্রভাবকেই সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে এই মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটগুলি মেঘালয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে উন্নত ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
________



















