রাঁচি, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনুর আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। প্রয়াত মন্ত্রীকে নিজের ‘দাদা’র মতো উল্লেখ করে সোরেন বলেন, তাঁর চলে যাওয়ায় জীবনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
রবিবার এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গভীর রাতে তিনি সুদিব্য কুমার সোনুর মৃত্যুর ‘হৃদয়বিদারক খবর’ পান। এই খবর মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সোরেন লেখেন, “সোনু ভাইয়া শুধু আমার প্রবীণ সহকর্মী বা রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন না। তিনি আমার কাছে একজন বড় দাদার মতো ছিলেন—স্নেহশীল, পথপ্রদর্শক এবং প্রতিটি কঠিন সময়ে দৃঢ়ভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।” তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং তাঁর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা সারাজীবন মনে থাকবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
ঝাড়খণ্ড আন্দোলনে সুদিব্য কুমারের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন সোরেন। তিনি বলেন, প্রয়াত নেতা ‘বাবা দিশোম গুরুজি’র পাশে পূর্ণ নিষ্ঠা ও শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে ঝাড়খণ্ডের পরিচয়, অধিকার ও মর্যাদার জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোরেন বলেন, ঝাড়খণ্ডিয়াতের প্রতি সুদিব্য কুমারের নিষ্ঠা এবং তাঁর অদম্য মনোবল চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও লেখেন, “সোনু ভাইয়া, আপনার চলে যাওয়া আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি। আপনার অনুপস্থিতি সবসময় অনুভব করব। আপনার স্নেহ, সংগ্রাম এবং ঝাড়খণ্ডের প্রতি আপনার অঙ্গীকার সারাজীবন নিজের সঙ্গে বহন করব।”
জেএমএম মুখপাত্র মনোজ পাণ্ডে সুদিব্য কুমারের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে বলেন, তাঁর অকাল প্রয়াণ ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা পূরণ করা কঠিন। তাঁর মৃত্যু জেএমএমের জন্যও বিরাট ক্ষতি বলে উল্লেখ করে প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি।
ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডিও সুদিব্য কুমারের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রথমে খবরটি শুনে বিশ্বাস করতে পারেননি বলে জানান তিনি। পরে গিরিডিতে নিজের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
মারান্ডি বলেন, “সুদিব্য সোনু অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি আমাদের শহরেরই মানুষ ছিলেন। একেবারে শুরু থেকেই আমরা একে অপরকে চিনতাম।” তিনি সুদিব্য কুমারকে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, সমাজ এবং তাঁকে চেনা প্রত্যেকের কাছেই বড় ধাক্কা।
কংগ্রেস নেতা রাজেশ ঠাকুরও এই মৃত্যুকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সুদিব্য কুমার তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। মাত্র দু’-তিন দিন আগেও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখন মন্ত্রী পর্যটন সংক্রান্ত একটি এক্সপোজার ভিজিটে বেঙ্গালুরুতে ছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে চিকিৎসক ডা. শাহজাদ শেখ জানান, বুকে ব্যথার অভিযোগ নিয়ে রাত প্রায় ২টা ১৫ মিনিটে সুদিব্য কুমারকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তাঁর বুকে ব্যথা ছিল। চিকিৎসকের মতে, বমির পর খাবার বা তরল শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ায় তাঁর শ্বাসনালির সুরক্ষার জন্য দ্রুত ইনটিউবেশন করতে হয়।
ইসিজিতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ধরা পড়ে এবং তাঁর রক্তচাপ মাপা যাচ্ছিল না বলে জানান চিকিৎসক। এরপর ইনোট্রপ ও ভাসোপ্রেসর দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং তিনি হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া হারান। এরপর সিপিআর শুরু করা হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঝাড়খণ্ড সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে থাকা সুদিব্য কুমার সোনুর আকস্মিক মৃত্যুতে গিরিডি থেকে গোটা ঝাড়খণ্ডজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা, দলীয় কর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সাধারণ মানুষ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করছেন।
–আইএএনএস
























