ওয়াশিংটন, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে এয়ার ইন্টারসেপ্টর বা আকাশ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা হয়ে উঠেছে বলে জানালেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মিত্র দেশগুলির চাহিদা মেটাতে গিয়ে নিজেদের সামরিক মজুত যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে আমেরিকাকে।
বুধবার স্থানীয় সময়ে এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “সারা বিশ্ব আরও বেশি এয়ার ইন্টারসেপ্টর চাইছে। এটি শুধু ইউক্রেনের নয়, গোটা বিশ্বের এক নম্বর প্রতিরক্ষা চাহিদা হয়ে উঠেছে।” মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আগ্রহী বলে জানান তিনি।
রুবিওর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আধুনিক যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও তুলনামূলক কম খরচের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে আমেরিকা-সহ সামরিক শক্তিধর দেশগুলির সামনে তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জটি স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, মিত্রদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে এখন মূল সমস্যা সদিচ্ছার নয়, বরং অস্ত্রের পর্যাপ্ত জোগানের। তাঁর কথায়, “এটি মূলত প্রাপ্যতার প্রশ্ন।”
মার্কিন প্রতিরক্ষার নিজস্ব প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে রুবিও বলেন, অন্য দেশকে সরবরাহ করতে গিয়ে আমেরিকার সামরিক চাহিদা পূরণে কোনও ঘাটতি রাখা যাবে না। দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা মজুত সবসময় পর্যাপ্ত রাখা জরুরি বলেও তিনি জানান।
মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন রুবিও। তাঁর সতর্কবার্তা, এ ধরনের ভুল তথ্য প্রতিপক্ষের দেশগুলি সত্যি বলে ধরে নিয়ে আমেরিকার সক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলির সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেনের শহর, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনা রক্ষায় এই ব্যবস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রুবিও বলেন, আমেরিকা নিজেদের সক্ষমতা ও মজুতের সীমার মধ্যে ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়ে চলেছে। তবে একইসঙ্গে “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির আওতায় দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়েও আমেরিকা ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইউক্রেনকে লাইসেন্সের অধীনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আমেরিকার আপত্তি আছে কি না জানতে চাওয়া হলে রুবিও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে লাইসেন্স পেলেও দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে একাধিক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে ঘাটতি কমাতে সাহায্য করলেও স্বল্পমেয়াদি সংকটের সমাধান করবে না।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পাশাপাশি তুলনামূলক সস্তা ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
—আইএএনএস
























