নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও সেশেলসের মধ্যে সংসদীয় আদান-প্রদান ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার আজারেল এরনেস্তা এবং সফররত সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পার্লামেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর এক্স-এ দেওয়া পোস্টে ওম বিড়লা বলেন, ভারত ও সেশেলসের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় আদান-প্রদান আরও গভীর করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেশেলসের স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং ভারত-সেশেলস কূটনৈতিক সম্পর্কেরও ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশ গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ‘ভিশন মহাসাগর’ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সেশেলস একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ওম বিড়লা আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংসদীয় যোগাযোগ ভারত-সেশেলস অংশীদারিত্বে নতুন গতি আনবে এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সেশেলস যান। ২০১৫ সালের পর সেটিই ছিল সেশেলসে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম সফর। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট হারমিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর করেছিলেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রেসিডেন্ট হারমিনির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সেশেলসের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। তিনি ভিক্টোরিয়ার পিস পার্কে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান এবং ভিক্টোরিয়ার অরুলমিগু নবশক্তি বিনায়ক মন্দিরেও প্রার্থনা করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সেশেলসের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ প্রদান করা হয়। টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ অর্থনীতির প্রসারে তাঁর দীর্ঘদিনের উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়।
সেশেলসে ভারতীয় হাইকমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ঐতিহাসিক যোগাযোগ এবং সেশেলসের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে ভারতের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভারত ও সেশেলসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বিদ্যমান।
























