নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠকের একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দফতরকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টি। ছবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘সস্তা ও লজ্জাজনক কাজ’ বলে কটাক্ষ করেছেন দুই দলের নেতারা।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের মানুষ এ ধরনের জালিয়াতি ও কারচুপিতে অভ্যস্ত। সে কারণেই বিশ্বের কেউ তাদের বিশ্বাস করে না। প্রধানমন্ত্রী মোদির ছবি থাকল বা না থাকল, তাতে কোনও পার্থক্য হয় না। এতে তারা নিজেদের দেশের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছে।”
সমাজবাদী পার্টির নেতা এসটি হাসানও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত সস্তা ও লজ্জাজনক কাজ। পাকিস্তানের এতটা নিচে নামা উচিত নয়। সবদিক থেকেই ভারত পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে। তাদের একমাত্র কাজ সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে।”
হাসান আরও বলেন, এসসিও সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের কোনও জবাব দিতে পারেনি পাকিস্তান। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার কোনও উত্তর তারা দিতে পারেনি এবং নীরব ছিল। কোনও জবাব না থাকায় হতাশা থেকেই তারা ছবিটি সম্পাদনা করেছে। এ ধরনের কাজের কোনও উদ্দেশ্য পূরণ হয় না, বরং এতে তাদেরই অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়।”
মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলন ঘিরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একটি এক্স পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। পোস্টে এসসিও-র সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি গ্রুপ ছবি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছবিটি দু’দিক থেকে কেটে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-সহ কয়েকজন রাষ্ট্রনেতা বাদ পড়েন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর পোস্টে লিখেছিল, “১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কিরগিজস্তানের বিশকেকে এসসিও কাউন্সিল অব হেডস অব স্টেটস সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের গ্রুপ ছবি।”
তবে ওই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পরেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজেই সমস্ত রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে মূল ছবিটি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জন্য পাকিস্তান এসসিও-র সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রকে সফলভাবে সম্মেলন আয়োজন এবং সংগঠন পরিচালনার জন্য অভিনন্দনও জানান তিনি। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের ‘অপরিসীম আত্মত্যাগের’ কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, মঙ্গলবার এসসিও-র ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক পথে সমাধানের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে গিয়ে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে, বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ভারতের প্রচেষ্টায় চিন প্রায়ই বিরোধিতা করে এসেছে।
______
























