অ্যাশভিল, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি-সহ ভারতের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশও কাজে লাগাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।
এখানে জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে আইএএনএস-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বাঙ্গা বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দেশের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা অন্য দেশগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। ২০৪৭ সালের উন্নত ভারত বা ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে বিশ্বব্যাংক ভারতের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়ের পরিধিও বাড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উদাহরণ তুলে ধরে বাঙ্গা বলেন, আধার থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অন্যান্য দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস হতে পারে। একইভাবে কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারও অন্য দেশগুলির জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের ২০৪৭ সালের লক্ষ্য অর্জনের প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন, শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির আকার বা প্রবৃদ্ধির গতিই এর নির্ধারক হবে না। বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান ও প্রভাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি বলেন, আগামী ১৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী যে দিশায় ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন, সেখানে অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা ও প্রভাব—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি একাধিক ক্ষেত্রে ভারত সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান বাঙ্গা।
কৃষিক্ষেত্রে ছোট কৃষকদের সহায়তায় প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভারতে তাঁর শেষ সফরের কথা উল্লেখ করে বাঙ্গা বলেন, উত্তরপ্রদেশে তিনি এমন সমবায় ব্যবস্থা দেখেছেন, যেখানে গুগল ও বিশ্বব্যাংকের প্রযুক্তিগত সহায়তায় ছোট কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও পরিষেবা বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ের পরিষেবা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করার এই মডেল আরও বিস্তৃত করা সম্ভব বলেও তিনি জানান। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত ক্লিনিকগুলিকে আঞ্চলিক হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরেন বাঙ্গা।
তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার পরিধি ভৌত পরিকাঠামো, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্যটন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নেতৃত্বের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বাঙ্গা বলেন, সাধারণ মানুষ ও নেতৃত্বকে আলাদা করে দেখা যায় না। তাঁর মতে, ভারত এমন নেতৃত্ব পেয়েছে, যা দেশকে সঠিক দিশায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে—এটি ভারতের গর্বের বিষয়।
























