ইম্ফল, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): নিজেদের দাবি-দাওয়া ও অভিযোগ জানাতে বন্ধ বা অবরোধের পথ না নেওয়ার জন্য মণিপুরের সব পক্ষের কাছে আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি বলেন, এই ধরনের আন্দোলন অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত হিংসাত্মক পরিস্থিতির জন্ম দেয়। তাই দাবিদাওয়া আদায়ে অন্যান্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুরের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং তাঁদের উদ্বেগের সমাধানে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই বন্ধ ডেকে কোনও সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
খেমচাঁদ সিং বলেন, বন্ধের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দিনমজুর, পড়ুয়া এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। প্রতিদিন কৃষিজ পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা মহিলা সবজি বিক্রেতাদের উপরও বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। কাজ বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের পরিবারের উপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
পড়ুয়াদের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বন্ধের কারণে রাজ্যের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়। ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যতে সমাজের প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রাজ্যের শিক্ষাবর্ষ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের চলমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি নয়াদিল্লি যাচ্ছেন। মণিপুরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হবে।
সম্প্রতি মণিপুরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) আপডেট করার দাবিতে নয়াদিল্লিতে প্রচার চালানো ১৪টি নাগরিক সমাজ সংগঠন (সিএসও) এবং বিধায়কদের প্রতিনিধিদলের ভূমিকারও প্রশংসা করেন খেমচাঁদ সিং। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁরা বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁদের প্রচারের ফলে নয়াদিল্লিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছে।
তবে আইন ভেঙে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি জানানো যেতে পারে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার কোনও প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
এদিকে, তিন বছরেরও বেশি সময় পর মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অসমের মধ্যে সড়ক পরিবহণ পরিষেবা ফের নির্বিঘ্নে চালু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ইম্ফল-দিমাপুর-গুয়াহাটি বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের বিশেষ সুবিধা হবে বলেও তিনি জানান। এতদিন ইম্ফল থেকে গুয়াহাটি যাতায়াতের জন্য অনেককে ব্যয়বহুল বিমান পরিষেবার উপর নির্ভর করতে হত।
উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জনগণনার আগে মণিপুরে এনআরসি আপডেট করার দাবিতে ‘ক্যাম্পেইন ফর জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার ডিলিমিটেশন’ (জেএফডি)-এর উদ্যোগে ১৭ আগস্ট মধ্যরাত থেকে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। ইম্ফল উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় এই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে। ১৮ ও ১৯ আগস্ট ৪৮ ঘণ্টার বন্ধের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন, মহিলা সংগঠন এবং প্রভাবশালী ‘মেইরা পাইবি’ বা মহিলা মশালবাহিনী সংগঠন-সহ একাধিক নাগরিক সমাজ সংগঠন ওই বন্ধকে সমর্থন করেছিল।
পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শিক্ষা দফতর ২০ আগস্ট থেকে তিন দিনের জন্য রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে ইম্ফল উপত্যকার একাধিক জেলা প্রশাসন জনগণনা-২০২৭-এর গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত অথবা বাতিল করে।
এনআরসি আপডেটের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এর আগে এক ছাত্র প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছিলেন, ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা পরবর্তী রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
—আইএএনএস



















