মান্ড্যা, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): কাবেরী জল-বিতর্কে তামিলনাড়ুকে জল ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার কর্নাটকের শ্রীরঙ্গপত্তনের কৃষ্ণ রাজ সাগর (কেআরএস) বাঁধ ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্নাটক বিজেপির একাধিক নেতাকে পুলিশ আটক করে। এদিকে কর্নাটক বিজেপির সভাপতি ও বিধায়ক বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের বিরুদ্ধে “কুমিরের চোখের জল ফেলার” অভিযোগ তোলেন।
কাবেরী ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (সিডব্লিউএমএ)-র তামিলনাড়ুকে জল ছাড়ার নির্দেশের প্রতিবাদে বিজেপি কেআরএস বাঁধের কাছে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। বাঁধের দিকে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বিজেপি নেতা-কর্মীদের আটক করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় ১,৫০০-রও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি.এস. ইয়েদিয়ুরাপ্পা, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর. অশোক, বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেতা চলাভাদি নারায়ণস্বামী, প্রাক্তন সাংসদ সুমলতা আম্বারিশ, প্রাক্তন মন্ত্রী এন. মহেশ, এমএলসি সি.টি. রবি, বিধায়ক টি.এস. শ্রীবৎস, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক প্রীতম জে. গৌড়া এবং দলের মুখ্য মুখপাত্র অশ্বথ নারায়ণ-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। মান্ড্যা, মাইসুরু, হাসান-সহ বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
বিক্ষোভসভায় বিজয়েন্দ্র অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ডি.কে. শিবকুমার কৃষকদের দুর্দশার কথা ভুলে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, একসময় মেকেদাতু প্রকল্পের দাবিতে পদযাত্রা করা শিবকুমার এখন কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বদলে তাঁদের জীবন নিয়ে রাজনীতি করছেন।
তিনি আরও বলেন, গত এক মাসে শিবকুমার প্রায় ১০ বার দিল্লি গেলেও কর্নাটকের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেননি। তাঁর কথায়, “এখন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা মানে শহর লুট হয়ে যাওয়ার পর দুর্গের দরজা বন্ধ করা।”
বিজয়েন্দ্রর অভিযোগ, গত তিন মাসে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুকে বিপুল পরিমাণ জল ছেড়েছে। সিডব্লিউএমএ-র নির্দেশ জারির আগে কেন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, “এখন মুখ্যমন্ত্রী শুধু নাটক করছেন এবং কুমিরের চোখের জল ফেলছেন। কাবেরী অববাহিকার কৃষকদের সঙ্গে কোনও অন্যায় হতে দেওয়া হবে না।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি.এস. ইয়েদিয়ুরাপ্পাও অভিযোগ করেন, কর্নাটকের স্বার্থ রক্ষার বদলে শিবকুমার দিল্লিতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি সত্যিই আন্তরিক হন, তবে তামিলনাড়ুকে এক ফোঁটা জলও ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে পদত্যাগ করবেন। একইসঙ্গে তিনি মেকেদাতু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর. অশোক অভিযোগ করেন, শিবকুমার “তামিলনাড়ুর জল এজেন্ট”-এর মতো আচরণ করছেন। তাঁর মতে, কাবেরী কর্তৃপক্ষের সামনে কর্নাটকের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল।
বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেতা চলাভাদি নারায়ণস্বামী বলেন, কর্নাটকে জলের সংকটের বিষয়টি সরকার কাবেরী কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সরকার যদি কেআরএস জলাধার থেকে জল না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিজেপি সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে।
এমএলসি সি.টি. রবি বলেন, সর্বদলীয় বৈঠক অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। আদালতের সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, কর্নাটকের স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে রাজ্যের মানুষ তা ক্ষমা করবে না।



















