কমলপুর, ৩১ জুলাই: কমলপুরে মাছ চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ল এক নাবালক। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে একাধিক বাড়ি ও মন্দিরে সংঘটিত চুরির ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার দাবি করেছে। যদিও তার এই দাবির সত্যতা এখনও পুলিশি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
অভিযোগ, শুক্রবার ভোরে কমলপুর থানা থেকে অল্প দূরে ভিতর ফুলছড়ি এলাকার বাসিন্দা নরেশ ঘোষের পুকুরে একদল যুবক ও নাবালক মাছ চুরির উদ্দেশ্যে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে পুকুরের মালিক ও স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় একজন নাবালককে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়। আটক নাবালকের বাড়ি কমলপুরের মায়াছড়ি এলাকায় বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে কমলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই নাবালক দাবি করে, সে একা নয়, সে একটি দলের সদস্য। তার দাবি অনুযায়ী, দলের অন্য সদস্যরাও মায়াছড়ি চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা এবং গত কয়েক মাসে কমলপুরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক চুরির ঘটনায় তারা জড়িত। এমনকি বিভিন্ন বাড়ি ও মন্দিরে চুরির ঘটনাতেও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সে দাবি করেছে।
এছাড়া সংবাদমাধ্যমের সামনে আটক নাবালক দাবি করে, চুরি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে তারা মাদক সেবন করত। তার এই বক্তব্য এলাকায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কমলপুরে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার বা চক্রটিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পুলিশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যায়নি। ফলে পুলিশের তদন্ত ও নজরদারি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক নাবালকের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। আটক নাবালকের দাবি কতটা সত্য, আদৌ কোনও সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না এবং সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে কি না—তার উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলেই।





















