নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার জানিয়েছেন, তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত। তবে অসুস্থতা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে দিপকে লেখেন, “আমার টাইফয়েড ধরা পড়েছে। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।”
একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে টাইফয়েড ধরা পড়েছে এবং বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রতিদিন সকালে তাঁকে শিরায় স্যালাইন (আইভি ড্রিপ) দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানিয়ে দিপকে বলেন, তাঁদের প্রচেষ্টাতেই আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।
এদিকে, সিজেপি জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস রুখতে শিক্ষা সংস্কার এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এ সংশোধনের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানালেও তাদের মূল দাবি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
কেন্দ্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের আগে শনিবার সকালে সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে রাজি না হয়, তাহলে বৈঠকের কোনও অর্থ নেই।
রাঙ্কা জানান, শুক্রবারের বৈঠকে ক্ষতিপূরণ এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিগত ইতিবাচক সাড়া মিলেছে এবং এদিন লিখিত আশ্বাস পাওয়ার আশা রয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবেন না। যদি সেটাই সরকারের অবস্থান হয়, তাহলে এই বৈঠকগুলির কোনও অর্থ নেই। সেক্ষেত্রে সিজেপি তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবে।
এদিকে প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্র সরকার শিক্ষা সচিবকে বদলি করেছে এবং জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থার (এনটিএ) ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করেছে। এ প্রসঙ্গে রাঙ্কা বলেন, শুধু এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তাঁর দাবি, চূড়ান্ত জবাবদিহি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর, কারণ প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলির জন্য এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের ঘটনার জন্য তিনিই সরাসরি দায়ী। তাই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
উল্লেখ্য, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এ সংশোধনের খসড়া বিল অনুমোদন করেছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত আইনে ব্যক্তিগতভাবে জড়িতদের জন্য ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।



















