গুয়াহাটি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): অসমে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ১০.৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজ্যের একাধিক জেলায় এখনও বন্যার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শুক্রবার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য রাজ্য সরকার দিনরাত কাজ করছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যাকবলিত পরিবারগুলির কাছে খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি লেখেন, “চলমান বন্যায় ১০.৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বহু জেলায় এখনও বন্যা পরিস্থিতি গুরুতর। প্রাণহানি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে আমাদের সরকার ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। খুব শীঘ্রই এই পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করব।”
মুখ্যমন্ত্রীর শেয়ার করা সর্বশেষ বন্যা বুলেটিন অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ২৫টি জেলার ১০,৬৩,২১৬ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বন্যায় ৭৭টি রাজস্ব চক্র এবং ২,০২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ১৬২টি ত্রাণ শিবিরে ৪১,২৬৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ১,০৭২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বন্যায় ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিবসাগরে ২১ জন, চরাইদেওতে ১০ জন, যোরহাটে ৮ জন, ধেমাজিতে ৩ জন, কার্বি আংলংয়ে ২ জন, গোলাঘাটে ২ জন এবং শোণিতপুরে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া এখনও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬ জন শিবসাগরের, এবং ধেমাজি ও চরাইদেওর একজন করে।
বন্যায় ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। ৪০১টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১,৮৫৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে এখনও পর্যন্ত ২৮,৯১২ জনকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যা পরিস্থিতি এবং চলমান উদ্ধার ও ত্রাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য তিনি শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
সূত্র: আইএএনএস


















