মুম্বই, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): উদ্ভাবক ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)। দলের মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে বলা হয়েছে, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করুন, সোনম ওয়াংচুককে বাঁচান।”
সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ১৫ দিন ধরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। তাঁর জীবন রক্ষায় কেন্দ্রের অবিলম্বে পদক্ষেপ করা উচিত।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অযোগ্য ও নিষ্ক্রিয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করছেন, অথচ ওয়াংচুকের মতো একজন সমাজকর্মীর দাবির প্রতি কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
দলের দাবি, ওয়াংচুকের আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে ছাত্রসমাজের স্বার্থে এবং এর সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়। সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অনশনে থাকা ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক সম্মান গ্রহণে ব্যস্ত কেন।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতে, জাতীয় স্তরের চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি -তে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার অনিয়মের জেরে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলি এখন প্রশ্নপত্র কেনাবেচার বাজারে পরিণত হয়েছে এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের যোগসূত্রের অভিযোগও উঠেছে।
ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনা ও বায়ুসেনার হাতে দেওয়ার সরকারি প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেছে শিবসেনা (ইউবিটি)। তাদের বক্তব্য, পরীক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা দূর না করে এ ধরনের পদক্ষেপ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
সম্পাদকীয়তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের আমলে দুর্নীতিগ্রস্ত উপাচার্য নিয়োগের ফলে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, পি. ভি. নরসিংহ রাও এবং অর্জুন সিংয়ের মতো নেতাদের সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করা হয়েছে।
২০১১ সালে জন লোকপাল বিলের দাবিতে আন্না হাজারের অনশনের প্রসঙ্গও টেনে আনে শিবসেনা (ইউবিটি)। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, তৎকালীন ইউপিএ সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছিল এবং সেই সময় বিজেপি আন্না হাজারের আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতায় এসে একই ধরনের আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করছে বিজেপি, যা তাদের দ্বিচারিতার পরিচয়।
শেষে শিবসেনা (ইউবিটি) দেশবাসী, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিশেষ করে যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে যন্তর মন্তরে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সোচ্চার হতে।
























