গান্ধীনগর, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলতে ‘যুব আপদা মিত্র’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে গুজরাতে ইতিমধ্যেই ৪,৫২৬ জন যুব স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ১৭টি জেলায় এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১১,৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুজরাত স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (জিএসডিএমএ) জানিয়েছে, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সময় বিশেষ উদ্ধারকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
২০১৬ সালে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ) ভরুচ জেলায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে এই উদ্যোগ শুরু করে। পরে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের নেতৃত্বে প্রকল্পটি গুজরাতের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রসারিত হয়।
বর্তমান পর্যায়ে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এনসিসি), ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (এনএসএস), মাই ভারত এবং ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস-এর সদস্যদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের নির্বাচন করা হয়েছে।
জিএসডিএমএ জানিয়েছে, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে এই প্রকল্পে ৫০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘আপদা মিত্র’ হিসেবে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্বাচন করা হয়। পূর্ববর্তী পর্যায়ে একই ১৭টি জেলার ৫,৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ)-এর মাধ্যমে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান পর্যায়ে প্রথম ধাপে এসডিআরএফ এবং মাস্টার ট্রেনারদের মাধ্যমে সাত দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে সরদার প্যাটেল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন -এর মাধ্যমে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
আহমেদাবাদ, আমরেলি, আনন্দ, ভাবনগর, জামনগর, জুনাগড়, খেডা, কচ্ছ, মোরবি, নর্মদা, নওসারি, পোরবন্দর, রাজকোট, সুরাট, তাপি, ভাদোদরা এবং ভালসাড়— এই ১৭টি জেলায় প্রকল্পটি চালানো হচ্ছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবককে ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ইমার্জেন্সি রেসপন্ডার কিট দেওয়া হচ্ছে। এতে লাইফ জ্যাকেট, সোলার টর্চ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, হেলমেট এবং ৫০ মিটার দীর্ঘ উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত বিশেষ দড়িসহ মোট ১৫টি প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।
এছাড়া বৃহৎ পরিসরের উদ্ধারকাজের জন্য প্রতিটি জেলায় প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ইমার্জেন্সি ইকুইপমেন্ট রিজার্ভ রিসোর্স কিট রাখা হয়েছে। এতে ইনফ্ল্যাটেবল রেসকিউ বোট, চেইনসো, স্যাটেলাইট জিপিএস এবং ওয়াকিটকির মতো সরঞ্জাম রয়েছে।
এই প্রকল্পে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দা হতে হবে এবং ন্যূনতম সপ্তম শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী, চিকিৎসক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় রয়েছে।
প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করলে স্বেচ্ছাসেবকদের শংসাপত্র, পরিচয়পত্র এবং তিন বছরের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বিমা সুবিধা দেওয়া হয়।
জিএসডিএমএ জানিয়েছে, ভরুচ জেলার ‘আপদা মিত্র’ স্বেচ্ছাসেবকেরা কোভিড-১৯ মহামারি এবং ২০২০ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া জেলা জরুরি অপারেশন কেন্দ্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা সংরক্ষণ করে এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত তাঁদের মোতায়েন করে।
























