অকল্যান্ড, ১১ জুলাই (আইএএনএস) : ভারতের চন্দ্রাভিযান চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্যে নিউজিল্যান্ডের মহাকাশ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার অকল্যান্ডে ভারতীয় প্রবাসীদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দুই দেশের মহাকাশ সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফলভাবে অবতরণ করার পর নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যেও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ভারতের চন্দ্রযান-৩ যখন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেছিল, সেদিন গোটা নিউজিল্যান্ড আনন্দে মেতে উঠেছিল। আমরা সবাই গর্ব অনুভব করেছিলাম। তবে আরও একটি গর্বের বিষয় রয়েছে, এই সাফল্যে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিরও অবদান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের একটি মহাকাশ সংস্থা একাধিকবার যৌথভাবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দেশ এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে মহাকাশ শিল্প। এই খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব দুই দেশের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগামী এক দশকে বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিকাশমান উদ্ভাবনী পরিবেশ এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির পরিবর্তন দেশের বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতিফলন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এখন আর শুধু গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
চন্দ্রযান-৩-এর ঐতিহাসিক সাফল্য এবং আসন্ন গগনযান মানব মহাকাশ অভিযান ভারতের মহাকাশ গবেষণাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও, অবকাঠামো পরিকল্পনা, বিভিন্ন প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ এবং জনপরিষেবা প্রদানে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করে ভারত বিশ্বে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলেও তিনি জানান।
























