গদগ (কর্ণাটক), ৯ জুলাই : কর্ণাটকের গদগ জেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবতীকে লাগাতার যৌন নির্যাতন এবং সেই অত্যাচারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গদগ জেলার রোনা তালুকের আরহুনাসি গ্রামে। এই ঘটনায় নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম দুর্গাপ্পা। অভিযোগ, ওই যুবতীর মানসিক সরলতার সুযোগ নিয়ে চকোলেট ও খাবারের লোভ দেখিয়ে তাকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যেত সে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তার ওপর ক্রমাগত যৌন নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি ওই যুবতী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুর্গাপ্পা কেবল ওই যুবতীর ওপর অত্যাচারই করেনি, বরং নিজের মোবাইল ফোনে সেই কুকীর্তির ভিডিও রেকর্ডও করে রেখেছিল। সম্প্রতি সেই নির্যাতনের একটি ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কিছু যুবক ভিডিওটি দেখার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তৎক্ষণাৎ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গ্রামবাসীদের জানান। এরপরই নির্যাতিতার মা পুলিশের দ্বারস্থ হন।
গত ৬ জুলাই নির্যাতিতা যুবতীকে গদগ ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল ঘটনার পাশাপাশি ভিডিওটি কীভাবে এবং কারা ছড়িয়ে দিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
এই ঘটনা কর্ণাটকে এই প্রথম নয়। এর আগেও রাজ্যে একাধিকবার মানসিক প্রতিবন্ধী নারীদের ওপর এই ধরণের নৃশংস অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে হাসান জেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণের পর সেই ভিডিও তার ভাইয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ২০২১ সালে মহীশূরের কে.আর. হাসপাতালের অসহায় ও নিরাশ্রয় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হন। ২০১৭ সালে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর এবং চালককে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ওই পুলিশ অফিসারের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।
গদগের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা।



















