কলকাতা, ৯ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রবাস মণ্ডলের পুলিশের ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যুকে ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন প্রতিবাদকারী বুদ্ধিজীবীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁদের তিনি ‘ভণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা শুধু ভণ্ড নন, সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির জন্য সমাজবিরোধী শক্তিরাও দায়ী। এঁরা নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়েই বেশি সচেতন। অপরাধ ঘটলে প্রতিবাদ করেন, আবার অপরাধীদের শাস্তি হলেও তার বিরুদ্ধেও সরব হন।”
তিনি আরও বলেন, “যারা অপরাধ করে এবং যারা অপরাধীদের পাশে দাঁড়ায়, তারা সমান অপরাধী।” বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত দিলীপ ঘোষ এদিন আরও বলেন, এ ধরনের মানুষদের “ডিম ছুড়ে মারা উচিত”।
বুধবার নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলার প্রথম গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত প্রবাস মণ্ডল পুলিশের ‘এনকাউন্টার’-এ নিহত হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে।
একদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সিপিআই(এম) এই ‘এনকাউন্টার’-এর তীব্র সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী-সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী এই ঘটনাকে সমর্থন জানিয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়ে সীমিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের একটি বড় অংশ, ঘটনাটিকে ‘তাৎক্ষণিক ন্যায়বিচার’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে অপর একটি অংশের মত, এ ধরনের ‘এনকাউন্টার’কে উৎসাহ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে পুলিশ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।























